,

দুই শতাধিক পরিবার গ্রাম ছাড়া

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ জেলার পাংশা উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নে হামলা মামলার ভয়ে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার  গ্রামছাড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও সংখ্যালঘু পরিবারসহ  ইউপির সাতটি গ্রাম যথাক্রমে শান্তিখোলা, সূবর্ণখোলা, বাংলাট, লটাভাঙ্গা ,দিঘলহাট ,ড্যামরামারা, কসবামাঝাইলসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ একদিকে পুলিশি গ্রেফতার অপরদিকে চরমপন্থিদের দ্বারা হত্যা,অগ্নিকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ডাকাতি,লুটপাট ধর্ষণের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।  ২২ জানুয়ারি রোববার সকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে ,গোলাগুলি, সংখ্যালঘুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ লুটপাট ও প্রায় অর্ধশত বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার উভয় পক্ষ পাংশা থানায় ১১৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করে ৪ টি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী।সংঘর্ষে পুড়িয়ে দেওয়া  বাড়িগুলোর পোড়া টিন,ভিটের পোড়ামাটি ছাড়া আর কিছুই নেই।হাড়ি-পাতিল, আসবাব পত্র জামা কাপড়ের সঙ্গে পুড়েছে চাল, ধান, পিয়াজ,রসুন,পাটসহ সব কিছু। পোড়া ভিটে আকড়ে ধরে খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা।

ঘটনার সাত দিন পার হলেও এলাকায় এ সংঘর্ষের রেশ কাটেনি। উভয় পক্ষের মধ্যে চলচ্ছে চাঁপা উত্তেজনা। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই চরমপন্থি ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এলাকায় দিনে রাতে আগ্নেয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক কয়েকজন সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা বলেন, এলাকার সবাই খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি বিশেষ করে সংখ্যালঘুরাই বেশি আতঙ্কে। প্রতিরাতেই বাড়িঘর ফেলে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রাণের ভয়ে নদী পাড় হয়ে পাশের জেলা মাগুড়ার শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে রাত্রি যাপন করছি। সকালে আবার ফিরে আসছি।সব থেকে বড় ভয়  বাহিনীর লোকজন রাতের বেলায় অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করছে।

জেলার চরমপন্থিদের আঁতুড় ঘর হিসাবে পরিচিত এই জনপদ বিশেষ করে উপজেলার কসবা মাঝাইল ইউনিয়ন এর মধ্যে অন্যতম।রাজবাড়ীর পাংশা, কুষ্টিয়ার খোকসা, ঝিনাইদহের শৈলকুপা এবং মাগুরার শ্রীপুর সীমান্ত অঞ্চল মিলিত হয়েছে গড়াই নদী বক্ষে। ফলে এই জনপদকে নিরাপদ আস্তানা হিসাবে বেছে নেয় চরমপন্থিরা।স্বাধীনতা পরবর্তী  ৪৫ বছরে পাংশা থানার ওসিসহ এখানে চরমপন্থিদের হাতে খুন হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাঝে মধ্যে কেউ কেউ অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও লিপ্ত হয় অপরাধ কর্মে।ফলে এই সংর্ঘষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় চরমপন্থিদের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত মহড়ায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি,লুটপাট ধর্ষণ, হত্যাসহ অপরাধ কর্মকাণ্ড  বাড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনের পর থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান খান ও নিবার্চনে হেরে যাওয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রাথী জর্জ আলী বিশ্বাসের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিলো।এরই জের ধরে ২২ জানুয়ারি রোববার সকালে দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এই জনপদ।নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষিকা বলেন, আমার স্বামী জর্জ আলী বিশ্বাসের সমর্থক হওয়ায় কামরুজ্জামান খানের লোকজন আমাকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে অশ্লিল ভাষায় গালাগালি ও বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছে।

জর্জ আলী বিশ্বাস বলেন, চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানের নির্দেশে তার ভাই আনোয়ার খান সন্ত্রাসী নিয়ে আমার সমর্থকদের উপর গুলি করে এবং এলাকায় সংখ্যালঘুর বাড়িসহ দুইটি বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।গ্রামে প্রায় পঞ্চাশটি বাড়িতে লুটপাট,ভাংচুর করেছে। দিনে রাতে চিহ্নিত চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। তাদের ভয়ে এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে অনত্র পালিয়ে গেছে।

চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান বলেন, জর্জ আলী বিশ্বাস নিজেই একজন সন্ত্রাসী । ইতিপূর্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে বেশ কয়েকবার জেলহাজতে খেটেছে।গত বছরেও পুলিশ সুপারের কায্যালয়ে জেলার চিহিৃত সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ঠিকানা ও ছবিসহ টানানো ছিলো। সে আওয়ামী লীগের নাম করে সন্ত্রাসী কাজ করে আসছে। তিনি আরও বলেন, আমার ভাই আনোয়ার খান পল্লব কুমার দত্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়নি। জর্জ আলী বিশ্বাস নিজের লোকজন দিয়ে সংখ্যালঘু পল্লব দত্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে  আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

থানা অফিসার ইনচার্জ এস,এম,শাহজালাল বলেন, পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।বর্তমানে পরিবেশ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category