,

সাংবাদিক তলবের নোটিশ সংসদে গৃহীত

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘমারার সংসদ সদস্য এনামুল হককে ‘ড্রাগ ডিলার’ উল্লেখ করে একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতীয় সংসদে অধিকার ক্ষুণ্নের একটি নোটিশ গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ নোটিশ গ্রহণ করা হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদে নোটিশটি বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদে সালাউদ্দিন ইউসুফ এমপির এ ধরনের একটি নোটিশ গৃহীত হলেও এরপর আর কোনো নোটিশ এই পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হয়নি। দীর্ঘ ২৬ বছর পর সংসদে আবার এ পদ্ধতিতে নোটিশ গ্রহণ করা হলো।

সংসদ সদস্য এনামুল বলেন, একটি পত্রিকা আমার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে আমি একজন ‘ড্রাগ ডিলার’। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলেই আমাকে গ্রেফতার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। বিশেষ করে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখনই দেশের দায়িত্ব নেন তখনই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়। বিশেষ কিছু পত্রিকায় জনপ্রতিনিধিদের চরিত্র হরণ করার জন্য মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে বিব্রত করেন।

স্পিকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি ‘ড্রাগ ডিলার’ এ ধরনের প্রমাণ যদি দিতে পারে আমি জনপ্রতিনিধিত্ব করব না। আর প্রমাণ না দিতে পারলে তাদের (সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক) সংসদে তলব করে তথ্য চান।

এনামুল বলেন, পত্রিকায় বিব্রান্তিকর নিউজ দিয়ে আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে আমার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সেই পত্রিকার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ইতোমধ্যে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি আমার আইনগত ব্যবস্থা নেব। কিন্তু এ হাউজের গার্ডিয়ান হিসেবে আপনার কাছে প্রতিকার চাই।

এছাড়া প্রমাণ দিতে পারলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলেও জানান তিনি।
 
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশেষ অধিকার কমিটি করে তাদের মুখোমুখি করা হোক এবং প্রমাণ দিতে না পারলে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। আমার প্রস্তাব, এভাবে আমাদের কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে যেন মিথ্যা খবর দিয়ে বিভ্রান্তি বা বিতর্কিত না করতে পারে।

এরপর স্পিকার সংসদে নোটিশটি গ্রহণের জন্য ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কমিটির সভাপতি। অন্য সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, এইচএন আশিকুর রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শাহাবুদ্দিন, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, জিয়াউল হক মৃধা ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদ সদস্যরা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৬৪ ধারায় প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। সংসদ অধিবেশনে ওই আবেদন তোলা হয়। গুরুত্বপূর্ণ হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। আবার বিষয়টি অধিকতর তদন্ত বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে কমিটির কাছে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কমিটি প্রতিবেদন দিলে সংসদ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের পর এমপিদের অধিকার ক্ষুণ্নের নোটিশ হিসেবে সংসদের বৈঠকে গৃহীত এটি দ্বিতীয় নোটিশ। এর আগে বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্যরা কমিটিতে সরাসরি নোটিশ দিলেও কোনো বৈঠক হয়নি। সংসদ অধিবেশনে সেগুলো তোলা হয়নি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category