,

হারিয়ে যাচ্ছে নাকুগাঁও গণকবর

শেরপুর প্রতিনিধিশেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত শতাধিক বাংলাদেশীর গণকবর অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে।

ফলে কালের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে নিহতদের নাম। এই গণকবরটি উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট আর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডালুর শূন্যরেখায় অবস্থিত।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মে অতর্কিতভাবে পাকিস্থানী হানাদারদের একটি দল ভোগাই নদী পার হয়ে ভারতের ডালু বিএসএফ ক্যাম্পসহ প্রায় দুই কিলোমিটার সীমানা ঘিরে ফেলে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া হাজারো মানুষ মেঘালয় রাজ্যের বারাঙ্গাপাড়া, ডালুবাজার, চান্দুভূঁই, মাছাংপানি, ছৈপানি, ডিমাপাড়াসহ বিভিন্ন মন্দির, রাস্তা ও গাছতলায় আশ্রয় নেয়।

এসব মানুষের ওপর হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। বিএসএফের প্রতিরোধ সত্ত্বেও হানাদারদের এক ঘন্টার তাণ্ডবে নয়জন বিএসএফ সদস্য ও শতাধিক বাংলাদেশি নিহত হন। নিহত অনেকের লাশ নদীর পানির স্রোতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। তবে তাদের মধ্যে যে ৫০-৬০টি মৃতদেহ পাওয়া যায়। এগুলো থেকে বাংলাদেশি মুসলমানদের লাশ নাকুগাঁওয়ে গণকবর দেয়া হয়। আর বিএসএফ সদস্যদের ভারতের মাটিতে সৎকার করা হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, অযত্নে অবহেলায় গণকবরটি পড়ে থাকায় এখানে এখন খড় ও ধান শুকানো হচ্ছে। কবরের পূর্ব অংশ নদীতে ভেঙে গেছে। অথচ সীমানার কাঁটা তার ঘেঁষে ভারতের নয়জন বিএসএফের স্মরণে একটি স্মৃতি ফলক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পাকিস্তানি হানাদাররা নাকুগাঁও-ডালুতে যে শতাধিক মানুষকে হত্যা করে তাদের লাশ শূন্যরেখার কাছে গণকবর দেয়া হয়। শহীদদের স্মরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৯৮২ সালে স্মৃতিফলক স্থাপনের জন্য একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়। কিন্তু পরে আর কেউ এগিয়ে আসেনি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শাহাবউদ্দিন বলেন, একাত্তুরে উপজেলায় নাকুগাঁও গণহত্যা উল্লেখ যোগ্য ঘটনা। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করলে নাকগাঁও-ডালুর গণহত্যার ইতিহাস সম্পর্কে সবাই জানতে পারবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category