,

নরসিংদীতে চালের মূল্য কেজি প্রতি ৪ টাকা বৃদ্ধি

এম লুৎফর রহমান নরসিংদী প্রতিনিধি ঃ নরসিংদীসহ দেশের বাজারে চালের দাম অব্যাহত গতিতে বেড়েই চলছে। গত এক পক্ষকালে চালের দাম কেজি প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ টাকা। চলতি পক্ষে প্রথম সপ্তাহে পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি চালের মূল্য ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সপ্তাহকাল স্থিতাবস্থায় থাকে। এরপর গত ৩ দিনে আবার বস্তা প্রতি ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। যার ফলে বর্তমানে খুচরা চাটাইগুলোতে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দরে। এর আগে আমন ধান কাটা শুরুর কিছু দিন পূর্বে চালের মূল্য কেজি প্রতি বেড়েছিল ১ টাকা করে। এইসব বাড়তি দর আর কমে নি। বর্তমান বাজারে সকল ভ্যারাইটিজ চালই কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকান সূত্রে জানা গেছে, ব্রি ২৮ চাল পক্ষকাল পূর্বে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৪০ টাকা। এখন বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। একইভাবে ব্রি ২৯ ধানের চাল পূর্বে ছিল ৪০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। নাজিরশাইল ধানের চাল পূর্বে বিক্রি হয়েছে ৪৬ টাকা কেজি, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫১ টাকা কেজি দরে। মিনিকেট চাল আগে ছিল ৪৬ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা, মোটা চাল স্বর্ণা এক পক্ষকাল পূর্বে বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। বাংলামতি চাল পূর্বে বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা কেজি দরে, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৯ টাকা কেজি দরে। একইভাবে কাজললতা বিক্রি হয়েছে ৪২ টাকা দরে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৯ টাকা কেজি দরে। উৎপাদনের ভরা মৌসুমে চালের মূল্য বৃদ্ধির সঠিক কারণ কেউ বলতে পারছে না। খুচরা দোকানদাররা বলছে তারা চালের মূল্য বাড়ায়নি। আড়ৎ থেকে যে দরে তাদেরকে চাল সরবরাহ দেয়া হয় সে দর থেকে আটআনা একটাকা বেশি দরে বিক্রি করে। এ ব্যাপারে নরসিংদী কৃষি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সদ্যাতীত আমন মৌসুমে নরসিংদীসহ সারা দেশে আমন ধানের ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। দেশে চালের কোন ঘাটতি নেই। এ মুহূর্তে চালের মূল্য বৃদ্ধির কোন যৌক্তিক কারণ নেই। চাষীরা তাদের নিজস্ব খাদ্য ও বীজ মজুদ রেখে বাকি ধান সব বিক্রি করে দিয়েছে। এসব ধান কিনে নিয়েছে মিল মালিকরা। তারা ধানের মজুদ গড়ে তুলে এখন সিন্ডিকেট পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করে চাল বাজারে ছাড়ছে। যে কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। নরসিংদী খাদ্য বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, গোডাউনে প্রচুর সরকারি চাল মজুদ রয়েছে। কিন্তু চাল বাজারে যাবার সব পথ বন্ধ। বিগত ২ মাস যাবত ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) পদ্ধতিতে চাল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে টেস্টরিলিফও নেই। সরকারের নিকট থেকে জনগণের কাছে চাল যাবার সকল পথই আপাতত: বন্ধ। আর এই সুযোগ গ্রহণ করেছে চালকল মালিকরা। তারা আমন ধান কিনে মজুদ করে রেখেছে। এখন সরকার ও জনগণের কাছে মনগড়া দরে এক চেটিয়াভাবে চাল বিক্রি করছে। যে কারণে বাজারে চালের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়াও সাধারণ মুনাফাখোররাও সবসময়ই উৎপেতে বসে থাকে। সুযোগ পেলেই তারা চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। তারাও সুযোগ নিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে থাকতে পারে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে চালের কোন ঘাটতি নেই। প্রতিটি ঘরেই চালের ব্যাপক মজুদ রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নরসিংদীতে চাল আমদানী হচ্ছে। কিন্তু এরপরও চালের মূল্য বৃদ্ধির কোন কারণ জানা যাচ্ছে না। তবে মিল মালিকরা জানিয়েছে, সরকারি গুদামে বর্তমানে চালের মজুদ কম। সরকার আমন চাল কিনে গুদামে মজুদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার চাল কেনার কারণে চালের বাজারে টান পড়েছে। সরকারের  চাল কেনা শেষ না হলে চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category