,

পশ্চিমবঙ্গে তিন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

কলকাতা প্রতিনিধি: রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে লস্কর-ই-তৈয়েবার তিন জঙ্গিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ মহুকুমা আদালত।

এরা হলেন, মহম্মদ আবদুল্লাহ, মহম্মদ ইউনুস এবং মহম্মদ মুজাফফর আহমেদ। এ তিন জঙ্গিকে শনিবার সাজা দেয় আদালতের ফার্স্ট ট্র্যাক-১ কোর্ট। গত সোমবার এই তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।

দোষীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪৬৮, ৪২০, ৪৭৮, ১২১, ১২০/বি সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের সেনা ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা ছিল এই জঙ্গিদের। সেই উদ্যেশ্যেই ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর বিএসএফ’র হাতে ধরা পড়ে যায় তারা। এরপর বনগাঁ থানার হাতে তাদের তুলে দেয়া হয় তাদের। পরে মামলার দায়িত্ব নেয় পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি গোয়েন্দারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সমীর দাস জানান আবদুল্লাহ ও ইউনুসের বাড়ি পাকিস্তানে। অন্যদিকে মুজাফফরের বাড়ি কাশ্মিরের অনন্তনাগে। কাশ্মিরের সেনা ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার উদ্যেশ্যেই আবদুল্লাহ ও ইউনুস করাচি থেকে ভিসা ও পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের একটি হোটেলে ওঠে।

বাংলাদেশ থেকে তাদের স্বাগত জানাতে যায় তাদের সঙ্গী মহম্মদ মুজাফফর আহমেদ এবং শেখ সমীর নামে দুই জঙ্গি। এরপর কোনো বৈধ নথি ছাড়াই পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে এই চার জঙ্গি ভারতে প্রবেশ করে। ভারতের মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা শেখ সমীরের বিরুদ্ধে মুম্বাই বিস্ফোরণেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। যদিও মুম্বাই বিস্ফোরণ মামলায় শুনানিতে হাজিরা দেয়ার জন্য মুম্বাইতে যাওয়ার সময়ই ছত্তিশগড় এলাকায় সে ট্রেন থেকে পালিয়ে যায়। তারপর থেকে এখনও সে পলাতক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সমীর দাস জানান পাকিস্তানে লস্কর শিবিরে একে-৪৭ চালানো, হ্যান্ড গ্রেনেড ছোঁড়া এবং বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত তিন জঙ্গিকে। আটক জঙ্গিদের কাছ থেকে ‘নাইট্রো গ্লিসারিনসহ বেশ কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য নাইট্রো গ্লিসারিন তরল বোমা তৈরিতে কাজে লাগে। এছাড়াও ওই চারজনের কাছ থেকে ভুয়া ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নকশা, মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আটক করার পর চার জঙ্গিই বেঙ্গালুরুতে নারকো অ্যানালিসিস টেস্টে তাদের সমস্ত পরিকল্পার কথা স্বীকার করে। গোয়েন্দাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিজে লস্কর-ই-তৈবার আত্মঘাতি স্কোয়াডের সদস্য বলেও স্বীকার করেছে মহম্মদ ইউনুস।

তবে নিম্ন আদালতের এই রায়ে খুশি নন আসামি পক্ষের আইনজীবী সুব্রত বসু। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ন্যায্য বিচারের দাবিতে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবো।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category