,

একটি কুয়া ৫৭ পরিবারের পানির ভরসা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম গ্রাম নতুন ত্রিপুরাপাড়া। বসবাস ৫৭টি পরিবারের। এসব পরিবারের পানির একমাত্র পানির উৎস একটিমাত্র কুয়া। এই পাড়ায় নেই কোনো নলকূপ। গ্রামের লোকজন দৈনন্দিন কাজ ও খাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন কুয়ার পানি। বর্ষায় সময় বৃষ্টির পানি ধরে রাখা হলেও শীত এলে বেড়ে যায় পানির ভোগান্তি।

১০ জানুয়ারি মাটিরাঙ্গা সদর থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরের গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের পানির উৎস কুয়াটি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। ৪০০ থেকে ৮০০ ফুট ওপরে পাহাড়ে বসবাস পরিবারগুলোর। পানি নেওয়ার জন্য দলবেঁধে এসেছেন কয়েকজন গৃহবধূ। সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁরা পানি সংগ্রহ করছেন।

গ্রামবাসী জানান, একটি মাত্র কুয়ার পানি থেকে এলাকার সবার পানি ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় পানি ঘোলাটে থাকে। এসব পানি ব্যবহারের ফলে প্রায় সময় গ্রামের লোকজন ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়। তা ছাড়া গ্রামে কোনো বড় আয়োজন করতে গেলে এক সপ্তাহ আগে থেকে পানি জমা করে রাখতে হয়।

পানি নিতে আসা গৃহবধূ রেখা ত্রিপুরা ও মিনা রানী ত্রিপুরা জানান, প্রতিদিন তাঁরা দলবেঁধে পাহাড় থেকে নামেন পানি সংগ্রহের জন্য। অনেক সময় এসে দেখেন কুয়ার পানিতে ময়লা। এ সময় পানি পরিষ্কার করতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়।

তবলছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কাশেম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধারণত নলকূপ ও রিংওয়েল দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে বহুবার নলকূপ বসানোর চেষ্টা করা হলেও পাথরের কারণে সম্ভব হয়নি। প্রশাসন যদি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে এই এলাকার মানুষের সুবিধা হবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা পাথুরে হওয়ায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে যদি গভীর নলকূপ বসানো যেত তাহলে পানির এত অভাব হতো না।

মাটিরাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী আনসারী বলেন, মাটিরাঙ্গায় কিছু এলাকায় মাটির নিচে সাত ফুট পর্যন্ত পাথর হওয়ায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। প্রকৌশল বিভাগ থেকে নতুন প্রকল্পের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে নতুন ত্রিপুরাপাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশকর্মী ও বেলার নেটওয়ার্ক সদস্য আবু দাউদ বলেন, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুপেয় পানি পাওয়া কষ্টকর। কিছু এলাকায় কয়েক মাইল পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এ ব্যাপারে পার্বত্য জেলা পরিষদকে নতুন করে ভাবতে হবে। 

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category