,

মিরপুর ভূমি অফিস দালালমুক্ত করার ঘোষণা

হাফিজুল ইসলামঃ ভূমি অফিস মানেই ভোগান্তি, কার্যালয়ের বাইরে দালালদের দৌরাত্ম্য। ভূমি সংক্রান্ত কাজে মোটা অংকের ঘুষ আর বাড়তি টাকা, সেবা প্রার্থীদের প্রতি কর্মচারীদের অবহেলা, দিনের পর দিন ভূমি মালিকদের হয়রানি। সাধারণ মানুষের কাছে এটি হলো ভূমি অফিসের বাস্তব চিত্র।

মিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসের চিত্রও একসময় এমনই ছিল। তবে ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে সে চিত্র। ইতিমধ্যে দালালমুক্ত করার ঘোষণা করছে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুবর্ণা রানী সাহা।

সরজমিনে দেখা যায়, অফিসের প্রবেশমুখে স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক ব্যানার ও স্টিকার। সাধারণ মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে হেল্পডেস্ক। আগে খোলা আকাশের নিচে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি। কখনো কোনো নথি প্রয়োজন হলে তা খুঁজে বের করতে সময় লাগতো কয়েকদিন। এ জন্য সাধারণ মানুষকে বাড়তি টাকা ঘুষও দিতে হতো। এখন সে সমস্ত নথিপত্র বিশেষ উপায়ে স্মারক ও ক্রমানুসারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। কোনো নথি প্রয়োজন হলে এক মিনিটের মধ্যে তা বের করা সম্ভব হচ্ছে। অফিসের দেয়ালে দেয়ালে দালাল ও ঘুষ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান এঁটে দেওয়া হয়েছে। এখন ভূমি মালিক নিজেই সরাসরি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে তাদের কাজকর্ম করে নিতে পারছেন।
উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়ের পাগলা গোপিনাথাপুর থেকে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা ভূমি মালিক আব্দুর রহিম বিশ্বাস বলেন, “আগে ভূমি অফিসে কোনো কাজ করতে এলে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। এখন অফিসে এলে হেল্প ডেস্ক থেকে সমস্ত তথ্য পাওয়া যায়। ফলে এখন ভোগান্তি আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুর্বণা রানী সাহা বলেন’ মানুষকে সেবা দেওয়াই আমাদের মূল কাজ। ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে কেউ ভোগান্তির শিকার হবে- এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইতিমধ্যে জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে অফিসের বিভিন্ন দেয়ালে সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো হয়েছে। অফিসের সামনেই স্থাপন করা হয়েছে হেল্পডেস্ক।”

অফিসটিকে সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষ দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা পাবে ‌এবং দালালদের দৌরাত্ম্য কমেছে। সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব জমির তথ্য সম্বলিত অ্যাপস তৈরির কাজ চলমান। তাছাড়া অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করা হবে।”
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ভূমি অফিসকে ডিজিটালাইজড এর মাধ্যমে সেবা প্রদান নিশ্চিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় উপজেলা ভূমি অফিসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ইতিমধ্যে ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অনলাইনে পর্চার আবেদন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে অনলাইনে মিস কেইস আবেদন করা যাবে। এখন ভূমি মালিকরা এসএমএসের মাধ্যমে মিস কেইসের তারিখ জানতে পারবেন। ভূমি অফিসের সামনে ভূমি মালিকদের জন্য ওয়েটিং রুম স্থাপন করা হবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category