,

তুর্কি জেলে গোদাগাড়ীর যুবক

রাজশাহী ব্যুরোঃ দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার এক যুবক বিপদে পড়েছেন। গৌড় চন্দ্র শীল (২৮) নামে ওই যুবক বর্তমানে তুরস্কের একটি কারাগারে বন্দী। গৌড়ের উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়নের জাওইপাড়া গ্রামের নরেন্দ্রনাথ শীলের ছেলে।

গৌড়ের ব্যাপারে সম্প্রতি তুরস্ক থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে। গত বুধবার সংস্থাটির সদস্যরা গৌড়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে যান। এরপরই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। গৌড়ের এমন বিপদের কথা শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। গোয়েন্দা সংস্থাটি বলছে, দালালের প্রতারণার কারণে গৌড়ের এমন বিপদ ঘটেছে। সরেজিমন তদন্ত প্রতিবেদন তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। এরপর গৌড়কে দেশে ফেরত আনতে সরকার উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে দালালের বিরুদ্ধেও।

গৌড়ের বাবা নরেন্দ্রনাথ শীল (৬২) জানান, তার ছেলে পেশায় একজন নাপিত ছিলেন। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে গৌড় দালালের মাধ্যমে ইরাক যান। নানা প্রলোভন দেখিয়ে দালাল হযরত আলী (৫০) চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে বিদেশে পাঠান। ছেলের বিদেশ যাওয়াতে তিনি দুই লাখ টাকায় নিজের এক বিঘা জমি বিক্রি করেন। বাকি টাকা একটি বেসরকারি সংস্থা ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নেন।

তিনি আরও জানান, মাসে ৩৫ হাজার টাকা বেতনে ইরাকে গৌড়কে অফিস পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাকে সড়ক পরিষ্কারের কাজ দেয়া হয়। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করে গৌড় এ কাজ করছিলেন। কিন্তু বেতনও তেমন একটা দেয়া হতো না। এরই মধ্যে মাত্র এক বছরের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে মাত্র এক লাখ টাকা দেশে পাঠাতে পারেন গৌড়।

গৌড়ের স্ত্রী রুমা রানী (২৬) জানান, ইরাকে বেতন দেয়া হতো খুবই সামান্য। বেতন মিলতো দুই-তিন মাস পরপর। কাজ করতে হতো প্রচণ্ড রোদের ভেতর। খাওয়ার কষ্টও ছিল মারাত্মক। দালাল তাকে মাত্র এক বছরের ভিসায় ইরাক পাঠিয়েছেন, এ বিষয়টি তারা আগে জানতেনও না। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তার স্বামী বিনা ভিসায় তুরস্কে প্রবেশ করেন। প্রায় এক মাস আগে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।

রুমা রানী জানান, গৌড় বিদেশ যাওয়ার পর থেকে দারুণ আর্থিক অনটনে পড়েছেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়েসহ নিজের খাবার জোগাড়ই তার কাছে খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এর উপরে আছে আত্মীয়স্বজনদের ঋণ। দালাল হযরত আলী পূর্ব পরিচিত হওয়ায় একবার তার কাছে তিন হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু তাও তিনি দেননি। তার স্বামীর ভালো কাজেরও ব্যবস্থা করেননি। এখন তাদের কোনো খোঁজও নেন না ওই দালাল।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমা রানী তার স্বামীকে দেশে ফেরত আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি দালাল হযরত আলীর শাস্তি দাবি করেন। হযরত আলীর বাড়ি উপজেলার মাটিকাটা গ্রামে। মাটিকাটা দাখিল মাদ্রাসার সুপারও তিনি। বাহরাইন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে তিনি লোক পাঠান বলে নিজেই স্বীকার করেছেন।

গৌড় চন্দ্র শীলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাকে এক বছরের ভিসায় ইরাক পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার চার লাখ টাকা তুলতে না পেরে ভিসা শেষে তিনি তুরস্ক প্রবেশ করেন। কিন্তু এটা অবৈধ। তাই তাকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এক্ষেত্রে আমার নিজের কোনো দোষ নেই।’

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category