,

WELLINGTON, NEW ZEALAND - JANUARY 12: Tamim Iqbal of Bangladesh bats during day one of the First Test match between New Zealand and Bangladesh at Basin Reserve on January 12, 2017 in Wellington, New Zealand. (Photo by Hagen Hopkins/Getty Images)

তামিমই ছিলেন ড্রেসিং রুমের স্বস্তি

খেলা ডেক্স: ম্যাচের তৃতীয় বল। স্লিপে কড়া পাহারা। তামিম ইকবাল কোনো দ্বিধা করলেন না। সপাটে বল স্লিপের ওপর দিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন। চার! আর এই চারেই থাকল বার্তা—নো মার্সি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক থাকলেন তামিম। ৪৮ বলে ফিফটি। ৫০ বলে ৫৬ করে আউট হলেন ঠিকই, কিন্তু তামিমের ১১ চারের এই ইনিংসে ড্রেসিং রুমে এই বার্তা ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে—এমন প্রতিকূল কন্ডিশনেও ব্যাট করা কঠিন কিছু নয়।

বৃষ্টিভেজা কন্ডিশন, উইকেটে ঘাস কিংবা ঝোড়ো বাতাস—একেবারেই অনভ্যস্ত কন্ডিশনে ৩ উইকেটে ১৫৪ রানে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। তামিম তৃপ্ত প্রথম দিনের খেলায়, ‘আমার মনে হয়, আমরা খুব ভালো ব্যাট করেছি। উইকেটে তো অবশ্যই বোলারদের জন্য কিছু ছিল। সে জন্যই তারা আগে বোলিং নিয়েছে। আমি মনে করি আমরা নিউজিল্যান্ডের বোলারদের খুব ভালোভাবে সামলেছি। আমরা শট খেলেছি। রানও পেয়েছি। যদি মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত থাকতে পারত, তাহলে আমরা বলতে পারতাম আদর্শ একটা দিন কাটালাম আমরা। তার পরেও আমরা আজ যথেষ্ট ভালো খেলেছি।’
বৃষ্টির কারণে ৪০.২ ওভারের নেমে এসেছে দিনের দৈর্ঘ্য। তবু পুরো দিনে দাপট বাংলাদেশের। তামিমের মূল্যায়ন, ‘ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সঙ্গে এই উইকেটের পার্থক্য তো অবশ্যই আছে। ওগুলো ছিল ব্যাটিং উইকেট। ওয়েলিংটনের উইকেট সবুজ। এই মাঠ সম্পর্কে তথ্য আমাদের কাজে এসেছে। অনুশীলনটাও কাজে এসেছে।’
শুধু বাংলাদেশ বলে নয়; রেকর্ড বলছে, সফরকারী দলগুলোর জন্য ওয়েলিংটনের প্রথম ইনিংস কঠিন এক পরীক্ষা হয়ে আসে। সেখানে বাংলাদেশের এই স্বস্তি। তামিম বললেন, ‘অবশ্যই খুশি। এই মাঠের ইতিহাস অন্য কথা বলবে। অতীতে দেখা গেছে এই উইকেটে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করাটা বেশ কঠিন। অনেক বড় দলও এই মাঠে প্রথম ইনিংসে খুব বেশি রান করতে পারেনি। এ সব বিবেচনায় নিলে আজ আমরা বোলিংটা ভালোই সামলেছি।’
আর এর শুরুটা তো তামিমই করেছিলেন! প্রথম থেকেই কি ভেবে রেখেছিলেন এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করবেন? তামিমের উত্তর, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে যেকোনো একটা উপায়ে ব্যাটিংটা করা দরকার। বিশেষ করে যখন আমরা টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামি। আমি চাচ্ছিলাম খারাপ বলগুলো যেন মিস না করি। এই পরিস্থিতিতে বোলিং করা দল আপনার বিরুদ্ধে ভালো বল করবে, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি যদি বাউন্ডারিগুলো মারতে পারি, তাহলে আমার জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়। এতে স্কোরবোর্ডও সচল থাকবে, আত্মবিশ্বাসটাও বাড়বে। পুরো ইনিংসের সময় ভাবছিলাম, স্কোরিংয়ের সুযোগগুলো যেন মিস না করি। আমার সামনে যতগুলো স্কোরিংয়ের সুযোগ এসেছে, সবগুলোই প্রায় কাজে লাগিয়েছি।’
ওপেনার হিসেবে নিজের কাজটা করার তৃপ্তিও আছে তাঁর, ‘আসলে এমন একটা ইনিংস হলে সবার মধ্যেই তখন এক ধরনের আত্মবিশ্বাস চলে আসে। আমার ইনিংসটি বাদ দিন। অন্যদের ইনিংসের দিকে তাকালে দেখবেন, ওগুলো আমার ইনিংস থেকে পুরোপুরি আলাদা। কিন্তু তারা তাদের সীমাবদ্ধতা ও সামর্থ্যের মধ্যেই খেলেছে। যে কন্ডিশন ছিল, আমার হিসাবে আমরা খুবই ভালো খেলেছি। রিয়াদ ভাই যদি শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকত, তাহলে অসাধারণ হতো।’
কিন্তু যেভাবে খেলছিলেন, তার ইনিংসটাও আরও বড় হলে ভালো হতো না কি? নিজের আউট নিয়ে সে রকম আফসোস নেই তামিমের, ‘ভালো ব্যাটিং করেও বড় ইনিংস খেলতে না পারলে আফসোস তো লাগবেই। তবে ভালো দিক হলো, আমি কোনো বাজে শট খেলে আউট হইনি। বলটা খুব ভালো ছিল। বাজে শট খেলে আউট হলে বেশি আফসোস করতাম।’
ফলে তামিমের মধ্যে কাজ করছে দলের জন্য ভালো ভিত্তি তৈরি হওয়ার তৃপ্তি, ‘আমার ইনিংস দেখে ড্রেসিং রুমে সবাই নির্ভার হয়ে গেছে, এটা বলব না। তবে অন্যরা এমন একটা ইনিংস খেলছে, তাহলে আমার মধ্যে অবশ্যই আত্মবিশ্বাস আসত। প্রথম বল হওয়ার আগে আমরা ভাবছিলাম কী হতে পারে-না হতে পারে! একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন কিন্তু ছিলই। কিন্তু আমার ইনিংস কিংবা মুমিনুলের ইনিংসটি দেখলে বোঝা যায় যে এই কন্ডিশনেও রান করা যায়, কিংবা টিকে থাকা যায়। এমনটা হলে সবার মধ্যেই এক ধরনের আত্মবিশ্বাস আসে।’
তামিমের রণকৌশল ছিল একেবারেই সহজ। বলের গুণ বুঝে সেভাবে খেলা। ভালো বলকে সমীহ করা। কিন্তু যদি মারার বল পান, একটাকেও ছাড়বেন না, ‘ব্যাটিং অ্যাপ্রোচটা পুরোপুরি নিজের পরিকল্পনার ছিল। আমি কিন্তু কেবল মেরে খেলার কথা ভেবে উইকেটে যাইনি। আমি ভেবে গিয়েছিলাম যে স্কোরিং শটগুলো মিস করব না। আমি যতগুলো মারার বল পেয়েছি, বেশির ভাগই কাজে লাগিয়েছি।’

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category