,

৩’শ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শূন্য

যশোর প্রতিনিধি:  যশোরের তিন শত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পদগুলো শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদানে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আট উপজেলায় ১ হাজার ২৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৩০০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। সদর উপজেলায় ৪৬টি, শার্শা উপজেলায় ২৬টি, মনিরামপুর উপজেলায় ৭২টি, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৩৩টি, ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৫টি, চৌগাছা উপজেলায় ৩০টি, কেশবপুর উপজেলায় ৩৬টি ও অভয়নগর উপজেলায় ৩২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

এ সব বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কেশবপুর উপজেলার মেহেরপুর, ঘোপসেনা, রঘুরামপুর, হাড়িয়াঘোপ, প্রতাপপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে দুই থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে। অথচ যেখানে প্রয়োজন পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষকের।

এ সব বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। এ সময় একজন শিক্ষককে একসঙ্গে তিনটি শ্রেণিতে পড়াতে হয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পাঠদান দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে ব্যাহত হয় বিদ্যালয়ের গোটা শিক্ষা কার্যক্রম। আর এ কারণে বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফলে প্রভাব পড়ছে। এ সমস্যার যত দ্রুত সমাধন হবে, বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল ততো ভালো হবে বলে শিক্ষকরা মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভা, প্রতিবেদন তৈরি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। সহকারী শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ করে সহকারী শিক্ষকদের পক্ষে সঠিকভাবে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া শিক্ষক সঙ্কটের কারণে তাদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের পক্ষে আটটি ক্লাস নিয়ে সঠিকভাবে পাঠদান করা সম্ভব নয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারী বলেন, সকল বিদ্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রধান শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সংকট। আর ব্যাহত হচ্ছে পাঠদানসহ সব কার্যক্রম। যশোর জেলায় শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category