,

কুষ্টিয়ায় শেষ হলো ক্র্যাক আন্তর্জাতিক আর্ট ক্যাম্প

মল্লিকা পাল : ‘মুক্তিবোধ’-The Sense Of Freedom শিরোনামে কুষ্টিয়ায় দেশি-বিদেশি চারুশিল্পীদের নিয়ে ৬ দিনব্যাপী ক্র্যাক আন্তর্জাতিক আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। দশমবারের মতো বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, জাপান, গ্রিস, আমেরিকাসহ মোট ৬টি দেশের ৩০ জন নবীন চারুশিল্পী অংশ নেন।

এ উপলক্ষে শহরতলীর রহিমপুরে ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত পর্যন্ত নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া শহরতলীর রহিমপুরে স্মরণ মৎস্য বীজ খামারে একেবারে গ্রামীণ ও নিরিবিলি পরিবেশে এই আর্ট ক্যাম্পের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘মুক্তিবোধ’-The Sense Of Freedom ক্র্যাক ট্রাস্টের আয়োজনে এখানে ছিল আধ্যাত্মবাদের সঙ্গে শিল্পের সমন্বয় সাধন করার নিরলস প্রচেষ্টা। ক্যাম্পের শিল্পীরা প্রধানত ইন্সটলেশন, ক্রাফট, পারফরম্যান্স নিয়ে কাজ করেছেন। শিল্প নির্মাণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে স্থানীয় নানা উপাদান ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে শিল্পচর্চার ধারাকে সামনে এগিয়ে নিতেই ছিল এই আয়োজন। এতে অংশ নিয়ে খুশি ভারতের জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রাজর্ষি দাসগুপ্ত, আমেরিকার পবিত্র মেহতা, জাপানের হিরোকা সুকোমতো, নেপালের মহেষ বস্তাকোটি, গ্রিসের মারিভা জাকারোফ, ভারতের সহিনী সেনগুপ্ত ও বাংলাদেশের তাহমিনা হাফিজ লিসা।এবারের আয়োজন ছিল অন্যবারের তুলনায় অনেকটা আকর্ষণীয়। অংশগ্রহণকারীও অনেক বেশি। গতবারের আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেছিলেন ১৬ জন। কিন্তু এবারে ৩০ জন। আর্ট ক্যাম্পে শিল্পীদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা, গোষ্ঠী স্বাধীনতা ও একান্ত নিজস্ব সত্তা ফুটে উঠেছে। তাদের অধিকাংশের কাজেই পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যের স্বাধীনতা বোধের বিভিন্ন পার্থক্য উঠে এসেছে। এসব ভিন্নধর্মী শিল্প প্রদশর্নী দেখে আনন্দে উদ্বেলিত এলাকার সংস্কৃতমনা ব্যাক্তিরা।

এর আয়োজক ক্র্যাক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শাওন আকন্দ বলছেন, বাউল দর্শনের সঙ্গে এই আর্ট ক্যাম্পের উদ্যোগের একটি সম্পর্ক রয়েছে। বাউলদের সাধু সঙ্গ থেকে এর ধারণাটি এসেছে। স্থানীয় শিল্পকর্ম ব্যবহার করেও ভালো কিছু করা সম্ভব, লালনের দেশে এই আর্ট ক্যাম্পের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণিত হলো।

শিল্প জীবনেরই একটি অংশ। জটিল এ প্রক্রিয়াটি সংস্কৃতির প্রতিটি মাধ্যমের ভেতরে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে অনুশীলনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলেই আসবে এর স্বার্থকতা এমনটিই মনে করেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category