,

স্কুলসেরা ৬৫ বছরের বাছিরন

মেহেরপুর প্রতিনিধি: শিক্ষার কোনো বয়স নেই। এটাই প্রমাণ করলেন, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের মাঠপাড়ার বৃদ্ধা মোছাম্মাত বাছিরন নেছা।

বাছিরন নেছা এবার প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৩ পেয়ে পাস করেছেন। শুধু পাস নয় বৃহস্পতিবার দেয়া ফলাফল বিদ্যালয় সেরা হয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা।

বাছিরন নেছা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। অন্য সহপাঠীদের সাথে পায়ে হেঁটেই বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির কারণে গত ২০ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেন বাছিরন।

ফল জানতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন বাছিরন। সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পাঁচ সহপাঠীও ছিলো। এ সময় বাছিরনের মুখে চিন্তার ছাপ দেখা যাচ্ছিল। তবে মুঠোফোনে ফল দেখার পরই তার মুখে হাঁসি ফিরে আসে।

নিজের ফল দেখার পর অনুভূতি প্রকাশ করে বাছিরন বলেন, এটা বইলে বুঝাতি পারব না, আজ আমার কত ভাল লাগছে। ওপরআলা আমার দিকে মুখ তুইলি তাকাইছে। আসলে স্কুলে পড়ার আনন্দই আলাদা।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান বলেন, দৃঢ় বিশ্বাস ছিল বাছিরন পাস করবেন। কিন্তু ভাবতেই পারিনি তিনি স্কুলসেরা হবেন। এই স্কুল থেকে মোট ছয়জন পরীক্ষা দিয়েছিল। বাছিরন স্কুলসেরা হয়েছেন।

জানা যায়, পবিত্র কোরানের অর্থ শিখতেই একসময় বাংলায় পড়ালেখা শেখার আগ্রহ হয় বাছিরনের। পরে শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করেস্কুলে ভর্তি হন তিনি।

বাছিরনের বড় ভাই আমিরুল ইসলাম জানান, খুব ছোটবেলায় একই গ্রামের রইল উদ্দীনের সাথে বাছিরনের বিয়ে হয়েছিল। প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী মারা যান। ছোট থাকতেই আরবি পড়েছিলেন তিনি, কিন্তু বাংলায় পড়তে পারেননি। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তাই এখন থাকেন ছেলের সংসারে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category