,

কুষ্টিয়ায় পুলিশের নির্যাতনে বৃদ্ধের মৃত্যু

ষ্টাফ রিপোর্টার: কুষ্টিয়া পুলিশ হেফাজতে আবুল কাশেম (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।আবুল কাশেম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের কবুর হাট গ্রামের বাসিন্দা। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে নিহতের বড় মেয়ে রিনা খাতুন জানান, জমি নিয়ে আামজেদ হোসেন নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তার বাবার বিরোধ ছিল। গতকাল সকালে এনিয়ে ঝগড়া হলে বাড়িতে পুলিশ আসে। বাবাকে না পেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর করে পুলিশ। পরে বিকেল চারটার দিকে দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী পুলিশ আবারও বাড়িতে আসে। এসময় ঘরের ভেতর গিয়ে বাবাকে পেয়ে আজিজ নামে এক দারোগা বাবাকে মারতে থাকে। এক পুলিশ রাইফেলের বাট দিয়ে পিঠে মারে। এসময় ঠেকাতে এক পুরুষ পুলিশ গলায় ধাক্কা দেয়। বাবাকে মারতে নিষেধ করলে আবারও আমার গায়ে হাত দিয়ে ব্লাউজ ছিড়ে ফেলে। কয়েক মিনিট পর পুলিশ গাড়িতে করে বাবাকে নিয়ে যায়। এরপরপরই থানায় যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে বাবাকে পাওয়া যায় না। পরে জানতে পারেন হাসপাতালে মরদেহ পড়ে আছে।

রিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,‘পুলিশ আমার বাবাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমার বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।’

হাসপাতালে দুই নম্বর ওয়ার্ডের সামনে নিহতের সেজো ছেলে জামিরুল ইসলাম বলেন,‘পুলিশ বাবাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পাঁচটা ১০ মিনিটে কুষ্টিয়া মডেল থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য আবুল কাশেমকে নিয়ে জরুরি বিভাগে আসে। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারুক আহম্মেদ তাকে দেখেন।

ফারুক আহম্মেদ বলেন,‘জরুরি বিভাগে রোগী নিজে কথা বলেছে। সে জানিয়েছিল তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। হার্টের সমস্যা আছে। এরপর তাকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে দুই নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এর কিচ্ছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।’

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) হাফিজ আল আসাদ বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে কবুরহাট এলাকায় একটি সরকারি জমি আমজেদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। এতে তাদের এক প্রতিবেশী আবুল কাশেম (নিহত ব্যক্তি) দাবি করে এটা তাদের জমি। এনিয়ে মামলাও হয়। মামলায় দুইবার আবুল কাশেম হেরে যায়। গতকাল রোববার ওই জমিটা আমজেদ পরিবারকে বুঝিযে দেওয়া হয়। এসময় আবুল কাশেম ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ আবুল কাশেমকে ধরে নিয়ে আসার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (অপারেশন) ওবাইদুর রহমান বলেন,‘আবুল কাশেম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের অভিযোগের সত্যতা নেই।’

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category