,

পশ্চিমবঙ্গে নারকেল মুচির রসে হবে চিনি!

কলকাতা প্রতিনিধিঃ নারকেলগাছের মুচির (ফুল) রস দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চিনি বা গুড় উৎপাদনে আগ্রহী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা এখন রাজ্য সরকারের অনুমতির অপেক্ষায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আখ, তাল বা খেজুরের রস দিয়ে তৈরি চিনি বা গুড় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু নারকেলগাছের মুচির রস দিয়ে তৈরি চিনি বা গুড় ক্ষতিকর নয়। কারণ, এতে গ্লাইসেমিকের পরিমাণ অনেক কম থাকে।

বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় নারকেলগাছের মুচির রস দিয়ে তৈরি চিনি বা গুড় দারুণ জনপ্রিয়। তারা এই চিনি বা গুড় বিদেশে রপ্তানি করছে। দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে ৩-৪ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে এই চিনি ও গুড় তৈরি হচ্ছে। কিন্তু পূর্ব ভারতে সেভাবে এই চিনি ও গুড় উৎপাদনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বাণিজ্যিকভাবে এই চিনি ও গুড় উৎপাদনে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁরা রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীপক কুমার ঘোষ বলেন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা এই রস থেকে তৈরি চিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। রাজ্য সরকারের অনুমতি পেলে তাঁরাও এই রস দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চিনি ও গুড় উৎপাদন করবেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতি মাসে নারকেলগাছে একটি করে ফুল বা মুচি ধরে। বছরে মুচি হয় ১২টি। এর মধ্যে ৮-১০টিতে নারকেল ধরে। মুচির ওপরের দিকে পুরুষ ফুল, নিচের দিকে স্ত্রী ফুল থাকে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই মুচির মাথার অংশ কেটে দিলে সেখান থেকে রস বের হয়। একটি মুচি থেকে এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে রস মেলে। এই রস বিশেষ কৌশলে সংগ্রহ করে তা দিয়ে চিনি ও গুড় তৈরি করা যায়।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category