,

হিন্দু বলে যেন বিচার বঞ্চিত না হই

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ ‘সাতক্ষীরায় চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র গৌতম হত্যার মূল পরিকল্পকারীকে আড়াল করতে পুলিশ উঠেপড়ে লেগেছে। আমরা হিন্দু বলে যেন ছেলে হত্যার বিচার থেকে বঞ্চিত না হই। পুলিশ জামায়াত নেতা জামশেদকে ধরে এনেও টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। আমি প্রথমে যে এজাহার দাখিল করি পুলিশ তা পাল্টিয়ে আমার সই নকল করে অন্য একটি এজাহার দাখিল করে।’

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে কথাগুলো বলছিলেন নিহত গৌতম সরকারের বাবা ইউপি সদস্য গনেশ সরকার।

লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, আমার ছেলে হত্যার দুইদিন পূর্বে জামায়াত নেতা জামশেদকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আমিসহ অত্র এলাকার চেয়ারম্যানসহ তাকে ছাড়ানোর ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করিনি। অপরদিকে, এই এলাকার নূর মোহাম্মদ মুক্ত, মাহমুদপুর গ্রামের রহমান জামশেদকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। হত্যার দিন সকালে জামশেদ আমার মোবাইলে দুইবার মিস কল দেয়। আমি তার মোবাইলে কল করলে সে বলে আমার যত টাকা খরচ হয়েছে তার বেশি টাকা তোর কাছ থেকে আদায় করব।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন আমার বড় দাদাবাবু মারা যায়। আমরা সবাই বাড়ির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমার ছেলে গৌতম পার্শ্ববর্তী দোকানে খেলা দেখছিল। সেখান থেকে আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়। পরের দিন আমি ঘটনাটি সহকারী পুলিশ সুপার, সদর ওসি ও ওসি (তদন্ত)কে জানাই। অপহরণকারীরা আমার কাছে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি তাদের কথামতো টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাই কিন্তু অপহরণকারীরা টালবাহানা করতে থাকে। পরে টাকা নিয়ে যাওয়ার স্থানে গেলে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা শাহাদাত ও শাওনকে আটক করে। তাদের মোবাইল চেক করে পাওয়া যায় তারা অনেকবার সাজু ও মহাশিনের সঙ্গে কথা বলেছে। এরপর কোমরপুর থেকে সাজুকে আটক করে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নাজমুলকে আটক করা হয়। আটক নাজমুল বলে তারা রাতে মহাশিনের বাড়িতে সেসহ শাহাদাত, সাজু, নাজমুল, ওমর ফারুখ, জামশেদ, মুক্ত ও মিঠু খাওয়া দাওয়া করে। মুক্ত তাদেরকে সাহস দিত, ‘এ ঘটনায় কিছু হবে না। সবকিছু আমি দেখবো।’ এই বলে।

সদস্য গনেশ সরকার বলেন, ছেলেকে দশ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনাটি সহকারী পুলিশ সুপার, ওসি (তদন্ত)কে জানলেও পুলিশ সুপার সাংবাদিক সম্মেলন করে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে গৌতমকে হত্যা করা হয়েছে এ ঘটনাটি তিনি কীভাবে বলেন। শুধু তাই না আসামি সাজু নাজমুল শাহাদাত জমশেদ, মিঠু, শাওন, মুক্ত, মহাশিন, ওমর ফারুখ সবাই থানায় পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে যে দশ লক্ষ টাকার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। সদর থানার ওসি কীভাবে বলেন জমশেদ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। আদালতে আসামিদের যে জবানবন্দি দেওয়া হয়েছে তা পুলিশের শেখানো বলে তিনি জানান। যার কারণে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য এবং আসামিদের বাঁচানোর জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঘোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ১২ জন ইউপি সদস্য।

গত ১৩ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের মহাদেবনগর গ্রামের ইউপি সদস্য গনেশ সরকারের ছেলে কলেজছাত্র গৌতম সরকারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন তার বাড়ির পাশে পুকুরে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category