,

কুষ্টিয়ায় জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

ষ্টাফ রিপোর্টার: কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি নয় Ñএবার অন্যের জমি জবর দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে খোদ কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়া শহরের বটতৈল এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তির প্রায় ১ একর জমি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগিরা। ওই জমি মালিকরা এ ব্যাপারে আদালতে একটি মামলাও করেছেন। তবে এতে থেমে নেই অবৈধ ওই মার্কেট নির্মাণ কাজ।

জমি মালিকদের লিখিত অভিযোগ ও রুজু হওয়া মামলার আরজি থেকে জানা যায়. ক্রয় সূত্রে বটতৈল মৌজার অন্তর্গত আর. এস ১০৩ নং খতিয়ানভুক্ত ১০৪ একর জমি (দাগ নং ২০৩২) মালিক জগতি এলাকার মৃত চাঁদ মহাম্মদের ছেলে আজিজুল হক. তোফাজ্জেল হক. সিরাজুল হক. মোফাজ্জেল হোসেন ও ইন্তাজুল হক। সিরাজুল হক মারা গেলে ওই জমির মধ্যে ২৬ শতাংশের মালিক হন তার চার ছেলে ও স্ত্রী। পরে ২০১২ সালের ৩০ জুলাই সিরাজুল হকের ছেলে মাসুদ রানা তার অংশের ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন কুমারগাড়া এলাকার মৃত ইছাহক আলী সেখের ছেলে আবু সাঈদের কাছে। আবু সাঈদ নাম পত্তন করে ওই জমি ভোগ দখল করে আসছিলেন। মাস খানেক পূর্বে হঠাৎ করে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ আবু সাঈদের ৪ শতাংশ জমিসহ পুরো জমি (১ একর ৪ শতাংশ) নিজেদের দাবি করে। পরে ওই জমিতে বালু ভরাট করে ইজারা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কেট নির্মাণ শুরু করে। এ ব্যাপারে আবু সাঈদ গত ৩০ নভেম্বর কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ শাহিনুর জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী শফিুলক আজম, সার্ভেয়ার মনিরুজ্জামান ও সহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমানকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া তিনি গত ৩ ডিসেম্বর উলে¬খিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডাইরীও করেছেন। জানা গেছে. ওই জমির অন্য মালিক অর্থাৎ আজিজুল হক. মোফাজ্জেল হোসেন ও ইন্তাজুল হক জীবিত থাকাকালে তাদের অংশ বন্ধুক (মর্টগেজ) রেখে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। সময়মত সে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ইতিমধ্যে তারা ঋণ খেলাপী হিসেবে পরিগনিত হয়েছেন। ঋণের দায়ে ব্যাংক যে কোনদিন ওই জমি নিলাম ডাকে তুলতে পারে বলে আজিজুল হক, মোফাজ্জেল হোসেন ও ইন্তাজুল হকের শরিকরা এ ব্যাপারে কোন কথা বলছেন না। এদিকে বিরোধপূর্ণ এ জমি ঘেষে রয়েছে বটতৈল ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও খুলনা বিভাগীয় সামাজিক প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র। মার্কেট নির্মাণের ফলে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানা ও ব্যাংকে মর্টগেজ রাখা জমি জেলা পরিষদের মতো একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান কিভাবে জবর দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসনি কর্মকর্তা শেখ শাহিনুর জামানের দাবি তারা কারো জমি জবর দখল করেননি। যেখানে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে সে জমির মালিক জেলা পরিষদ। যারা মালিকানা দাবি করছেন তারা ওই জমির বিপরীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করেছে বলেও দাবি করেন এ কর্মকর্তা।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category