,

বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরির দাবি ন্যাপের

ঢাকা অফিস: স্বাধীনতার ৪৫ বছরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হলেও, আজও হয়নি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা। যা জাতির জন্য খুবই লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাপ নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী শামস্ ইরানী’ স্মরণে শহীদ শামস্ ইরানী স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পাকিস্তানি শাসন-শোষণের কব্জা থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে সেদিন এ জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়েছে। ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাস এজন্য জাতিকে লড়তে হয়েছে এক শক্তিশালী ও বর্বর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। ৯ মাসের এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কয়েক লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছে। অপরিমেয় ক্ষতি হয়েছে দেশের সম্পদের। স্বাধীনতার উষালগ্নে হত্যা করা হয়েছে দেশের সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে নির্মমভাবে।

শহীদের ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা আনছার রহমান শিকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও নাসিক নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রচারণা সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক বাসন্তী বরুয়া বাবলী, মোঃ মিজানুর রহমান, জাতীয় ছাত্র কেন্দ্রের যুগ্ম সমন্বয়কারী সোলায়মান সোহেল, মেহেদী হাসান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, প্রতিদিন-প্রতি মুহুর্ত আমাদের শাসকগোষ্ঠিরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর শহীদের চেতনার কথা বলে মুখে ফেনা তুললেও প্রকৃত অর্থে তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনায় বিশ্বাস করে না। যে স্বপ্ন ও আকাংখা নিয়ে একসাগরের রক্তের বিনিময়ে আর শামস্ ইরানীদের মত শতশত বুদ্ধিজীবীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ বাংলাদেশ, সে গণতান্ত্রিক ও শোষনমুক্ত বাংলাদেশ আজও প্রতিষ্ঠিতম হয় নাই। তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী শামসুর রহমান ওরফে শামস ইরানীসহ ৭১-এ শহীদ বুদ্ধিজীবীদর স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ সাম্রাজ্যবাদী-আধিপথ্যবাদী শক্তি ও তাদের এদেশীয় দোষর শকুনের থাবায় আক্রান্ত ও ক্ষতবিক্ষত।

উল্লেখ্য, শামসুর রহমান ওরফে শামস ইরানী ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় গ্রেফতার হন। পাকিস্তান আর্মি ও কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর লোকেরা তার রায় সাহেব বাজারস্থ বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। রাতেই তাকে হত্যা করা হয়। তার লাশ পাওয়া যায় রায়েরবাজার ইটাখোলাস্থ বধ্যভূমিতে। পরে ১৮ ডিসেম্বর শহীদের ভাই লাশ সংগ্রহ করে রায়সাহেব বাজার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category