,

জায়গায় নেই পাহাড়তলী বধ্যভূমি!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:  শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এলেই তোড়জোড় পড়ে যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী বধ্যভূমি সংস্কার ও ধোয়ামোছার। বিএনপির আমলে এই বধ্যভূমিটি করা হলেও এর পাশে যেখানে ইউএসটিসি ভবন করেছে, সেটি ছিল মূল বধ্যভূমি। সঠিক স্থানে বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের জন্য ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল্ কিন্তু মূল জায়গায় তৈরি করা হয়নি বধ্যভূমি।

জানা গেছে, পাহাড়তলী বধ্যভূমিটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। ডিসেম্বর মাস এলেই করপোরেশনের উদ্যোগে বধ্যভূমির ময়লা-আবর্জনা ঝেড়ে রঙিন রঙে শোভাবর্ধন পায় এ বধ্যভুমি।

এই বধ্যভূমি সঠিক জায়গায় সংরক্ষণে তেমন কোন ভূমিকা রাখেনি সিটি করপোরেশন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের দুই বছর পরও এখনো পাহাড়তলী বধ্যভূমি সংরক্ষণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে এই বধ্যভূমি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাহাড়তলীর এই জল্লাদখানায় অন্তত পাঁচ হাজার নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করা হয়।

পাহাড়তলী বধ্যভূমি সংরক্ষণে আটজন বিশিষ্ট নাগরিকের করা একটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১৪ সালে বধ্যভূমিটি সঠিক স্থানে সংরক্ষণের আদেশ দেন। ‘প্রজন্ম ৭১’ নামের একটি সংগঠন এবং একাত্তরের শহীদ পরিবারগুলো বারবার আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চালাচালি করে আসলেও অগ্রগতি আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে মূল বধ্যভূমি, সেখানে চারতলা পরিত্যক্ত একটি ভবন রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের জন্য এ ভবন নির্মাণ করেছিল। আদালতের আদেশে এই ভবনটি উচ্ছেদ করে বধ্যভূমি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের জন্য  আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌঁনে দুই একর জমি অধিগ্রহণ করে বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এ জন্য ৯৪ লাখ টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এসে প্রকল্প  বাতিল করে টাকা ফিরিয়ে নেয়। ওই জমিটি কিনে নিয়ে ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ সেখানে ভবন নির্মাণ শুরু করেছিল। সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মুনতাসীর মামুন, মিলি রহমান, গাজী সালেহউদ্দিনসহ আটজন বিশিষ্ট নাগরিক প্রথমে  হাইকোর্টে রিট করেন। পরে আবেদনকারীরা আপিল বিভাগে যান। আপিল বিভাগ ওই জমিতে বধ্যভূমি রয়েছে কি না, তা জানতে কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহর নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক স্থানে বধ্যভূমি সংরক্ষণের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে বধ্যভুমি সংরক্ষণের জন্য ধোয়ামোছা ও রঙের কাজ করি। এবারও করেছি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category