,

তালবাড়ীয়া বিলে প্রশাসনের সহায়তায় মাছ ধরা চলছে!

হাবিবুর রহমান: মুখের কথায় সেখানে আদেশ। গায়ের জোরে দখল আর অনিয়মকে নিয়ম করেই চলে সেখানে। সেটা হলো জেলার দৌলতপুর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রাম। খুলনা বিজ্ঞ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাঃ) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের আদেশ অমান্য করেই চলছে সব কার্যক্রম। সর্বশেষ ঢাকা ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মুজিবর রহমান হাওলাদারের রায়কেও অমান্য করে প্রশাসনের সহায়তায় তালবাড়ীয়া বিলে জোর করে মাছ ধরা হচ্ছে। যে বিলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে আদালত। সেটি মানা হচ্ছে না।
জানা যায়, ১৪২৩-১৪২৫ বাংলা সনে জন্য দরপত্র আহবান করে কুষ্টিয়া জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। সেখানে সরকারী ইজারা মুল্য ধার্য্য করা হয় ৫৪,৬০০ টাকা। সেই দরপত্রে এই জলমহালটি ইজারা নেওয়ার জন্য তালবাড়ীয়া বিল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ৮,৫০,০০০ টাকার ও শাপলা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ৫,৫৩,৯৫০ টাকা দরপত্র জমা দেয়। সেখানে দরপত্রে উল্লেখ ছিলো সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকা যে সমিতি দরপত্র দেবে তাকেই জলমহালটি দেওয়া হবে। এখানে তালবাড়ীয়া বিল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি শাপলা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি চেয়ে অধিক টাকা বেশি দরপত্র আহবান করে। তবে বেশি টাকার দরপত্র আহবান করা সত্বেও আজ পর্যন্ত এ জলমহালটি তারা পায়নি।
এ ব্যাপারে জেলা জলমহাল কমিটির বিরুদ্ধে একটি মামলা করে তালবাড়ীয়া বিল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। এই মামলার প্রেক্ষিতে খুলনা বিজ্ঞ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাঃ) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি আদেশ প্রদান করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন কুষ্টিয়া জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ১০-০২-২০১৬ খ্রিঃ তারিখের সভায় তালবাড়ীয়া জলমহালটির পূণঃটেন্ডার আহবানের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো। প্রথম দফায় দরপত্র দুটি জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নীতিমালার আলোকে বিচার বিবেচনা পূর্বক যোগ্য সংগঠন/সমিতি অনুকূলে ইজারা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার আদেশ দেন। তবে যোগ্য মৎস্যজীবী সংগঠন/সমিতি না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে পূনঃদরপত্র আহবানের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এবং সেই সাথে অত্র আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।
বিভাগীয় কমিশনারের এ নির্দেশকে উপেক্ষা করে গত ১৩ এপ্রিল বুধবার কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হেনা মুস্তাফা কামাল ০০.০০.৫০০০.০০৫.৫৫.০০১.২০১৪-৫১১ স্মারকে একটি পত্র জারি করে।
পরবর্তীতে গত ২৬ জুন খুলনা বিজ্ঞ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ভূমি আপিল বোর্ডের বিজ্ঞ সদস্য-১ আদালতে “৪-৯৩/২০১৬ (জম) আপিল” নং মামলা দায়ের করেন। পরে ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালত গত ০১ আগষ্ট মামলাটি বিজ্ঞ ফুলবোর্ডে পাঠায়।
এ মামলায় গত ২৮ আগষ্ট ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মুজিবর রহমান হাওলাদার একটি আদেশ দেন। তিনি আদেশে উল্লেখ করেন খুলনা বিজ্ঞ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) খুলনা বিভাগ, খুলনা আদালতের ৫৬/১৬ নং মামলায় বিগত ২৬/০৬/২০১৬ তারিখের আদেশ রদ রহিত করা হলো। তালবাড়ীয়া বিল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে বিবেচনা করে ইজারা প্রদানের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হলো। অত্র আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা প্রত্যাহার করা হলো। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আদেশ অবহিত করে নি¤œ আদালতের নথি থাকলে তা ফেরত পাঠানো হোক।
তবে বিজ্ঞ ভূমি আপিল বোর্ডের এ আদেশকে অমান্য করে সোমবার দৌলতপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধভাবে তালবাড়ীয়া বিলে মাছ ধরছে শাপলা মৎসজীবি সমিতি।
তবে এলাকার সাধারন মানুষ বলছে শাপলা মৎসজীবি সমবায় সমিতি থানা পুলিশকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশ পাহারায় মাছ ধরেছে। তাছাড়া সরকারী বাহিনী হয়ে কিভাবে আদালতের আদেশ অমান্য করে মাছ ধরছে তা বোধগম্য নয় কারো।
নাম প্রকাশ্যে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, যারা মাছ ধরছে তারা তো প্রকৃতি মৎস্যজীবি না। তারা মুলত এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। পুলিশ আর সন্ত্রাসীদের দখলে তালবাড়ীয়া বিল। বর্তমানে সাধারন মানুষ বিলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আতঙ্কে রয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category