,

পশ্চিমবঙ্গে সেনা তল্লাশি: ক্ষোভ

অরিন্দম পান, কলকাতা প্রতিনিধিঃ কলকাতাসহ বিভিন্ন টোল প্লাজায় সেনাবাহিনীর তল্লাশি অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যটি থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সচিবালয় নবান্ন না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে অবস্থান নেন।

 শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

বৃহস্পতিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন টোল প্লাজায় সেনাবাহিনী নামানো হয়। সেনা সদস্যরা এসব টোল প্লাজায় যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে এবং সেনাবাহিনীর একটি স্টিকার লাগিয়ে দেয়।

মমতা বলেছেন, রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে কেন্দ্রের নির্দেশে সেনাবাহিনী এই অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযোগের জবাবে সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুনীল যাদব বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চিঠি দিয়েই এই অভিযানে নেমেছে সেনাবাহিনী। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, সেনাবাহিনী ২৮, ২৯ এবং ৩০ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে মহড়া দেবে। কিন্তু ২৮ নভেম্বর বনধ্সহ অন্যান্য কর্মসূচি থাকায় ১ ও ২ ডিসেম্বর মহড়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অভিযোগ, মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব বা পুলিশকে না জানিয়েই সেনা অভিযান শুরু করা হয়েছে। সেনা তল্লাশির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আজ দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কার্যালয় ও ভবন রাজভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেন তৃণমূলের বিধায়কেরা। তাঁরাও পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেনা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত রাজভবন চত্বর না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তৃণমূলের নেতা ও মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে দলের তরফ থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। রাজ্যপাল বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

মমতা বলেছেন, সেনা তল্লাশির কারণে সাধারণ মানুষ ভয় পেয়েছে। তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এখানে সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে নাকি? কি কারণে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার পাশাপাশি গোটা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা হলো?’

এদিকে সেনাবাহিনী বলছে, এটি তাদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ। দু’দিন ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং মিজোরাম সর্বত্রই একাধিক জায়গায় সেনাবাহিনীর এই কর্মসূচি চলছে। প্রতিটি দলে ৫ থেকে ১০ জন নিরস্ত্র সেনা রয়েছেন।

সেনাবাহিনীর এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন রাজ্যসরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পেরেছেন, সেখানে এ ধরনের কোনো তল্লাশি অভিযান হয়নি। তাহলে কেন পশ্চিমবঙ্গে এই সেনা তল্লাশি?

তৃণমূলের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যকে না জানিয়ে যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে সেনা নামানো হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর এক আঘাত। তৃণমূলের আরেক সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি জায়গায় সেনা নেমেছে। এ ধরনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে আগে ঘটেনি।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category