,

‘তোমাদের চেয়ারম্যান কিন্তু আমার তো স্বামী’

এরশাদের মামলা নিয়ে তোমাদের চেয়ে আমি বেশি হতাশ। তিনি তো তোমাদের চেয়ারম্যান কিন্তু আমার তো স্বামী। তাই কষ্টও বেশি তোমাদের চেয়ে চেষ্টাও বেশি রয়েছে আমার।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট হলে জাতীয় পার্টির যৌথসভায় উত্তেজিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের তিনি আরো বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানের মামলা নিয়ে তোমরা চিৎকার করছ। তার মামলা প্রত্যাহার আমি আগে চাই। এজন্য গোপনে কমপক্ষে ১০০ বার এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। তিনি বারবার বলেছেন- দেখব, করব, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কেন হচ্ছে না? কারণ আমরা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। এজন্য শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। এমনভাবে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে যাতে তারা ডেকে নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় তিনি এরশাদের মামলাসহ সব বিষয়ে নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। আগামী সংসদে তিনি এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখার কথাও বলেন।

এরশাদের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তোমরা কোনো চিন্তা করো না, পার্টির চেয়ারম্যানের মামলাসহ সব দায়িত্ব আমি নিলাম। মামলা নিয়ে সংসদে আমি কথা বলব।

১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়। এরশাদের আগে বক্তব্য দিতে ওঠেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলা শুরু করলে ছাত্রসমাজের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে এরশাদের মামলা প্রত্যাহারের শ্লোগান দিতে থাকেন এবং মামলা নিয়ে কথা বলতে হৈ চৈ শুরু করে দেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন যুবসংহতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে হতবাক হয়ে যান রওশন। এর কারণ জানতে চান মঞ্চে বসা নেতাদের কাছে। এ সময় নেতাদের কেউ কেউ রওশনের বিরুদ্ধে তির্যক মন্তব্য ছুঁড়ে দেন, কেউ কেউ মামলা প্রত্যাহার করতে না পারলে সংসদ থেকে বেরিয়ে আসার কথাও বলেন। নেতাকর্মীদের হৈহুল্লোড় ও চেঁচামেচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে রওশন বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করে দেন। তিনি মামলার বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও নেতাকর্মীদের চিৎকারে বক্তব্য থামিয়ে দিতে বাধ্য হন। এ সময় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা সর্বশেষ মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার মাইকে নেতাকর্মীদের শান্ত হয়ে বসার আহ্বান জানান এবং বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শোনার জন্য নির্দেশ দেন। তারপরও তারা চিৎকার করতে থাকলে বাধ্য হয়ে এরশাদ নেতাকর্মীদের দাঁড়িয়ে থামিয়ে দেন। এর পরপরই বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের মামলা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগীত গেয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

যৌথসভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতী, দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, ময়মনসিংহ জেলা সেক্রেটারি ফকরুল ইমাম এমপি, রংপুর জেলা সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, নাটোর জেলা সভাপতি মজিবুর রহমান সেন্টু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম মিলন, গাজীপুর জেলা সভাপতি আলহাজ আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী জেলা সম্পাদক শওকত চৌধুরী এমপি, সিলেট মহানগর আহ্বায়ক ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এমপি, বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সম্পাদক নুরুচ্ছফা সরকার।

উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, নাসরিন জাহান রতনা এমপি, রিন্টু আনোয়ার, নোমান মিয়া এমপি, কাজী মামুনুর রশীদ, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, আরিফুর রহমান খান, আলমগীর সিকদার লোটন, মহিলা পার্টির সেক্রেটারি অনন্যা হোসেন মৌসুমী প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category