,

??????????????????????????????????????????????????

৩৮ বছর বন্ধ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনিরুদ্দিনের উত্তরাধিকার ভাতা

হাবিবুর রহমানঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনাদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন কুষ্টিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুদ্দিন। কুষ্টিয়ার তৎকালীন মহকুমা (বর্তমানে জেলা) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিনের পুত্র তিনি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনিরুদ্দিনের স্ত্রী আজিমন নেছার নামে  ১৯৭৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে উত্তরাধিকারী ভাতা চালু করা হয়। টানা তিন বছর মাসিক ভাতা দেয়ার পর অজ্ঞাত কারনে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ ভাতা চালুর জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন কুল-কিনারা করতে পারেন নি। এখন সর্বশেষ ভরসা হিসাবে সদাশয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আশায় বুক বেঁধে আছেন তিনি ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশ মাতৃকার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ১৯৭১ সালে ৩২ বছর বয়সে পাক সেনাদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন মনিরুদ্দিন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবারে ৯ বছর বয়সী একমাত্র কন্যা মনজুরা খাতুন ও স্ত্রী আজিমন নেছাকে রেখে যান। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকারী হিসাবে স্ত্রী আজিমন নেছার নামে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট ১৯৭৫ সালের জানুয়ারী মাস থেকে মাসিক একশত টাকা অনুমোদন ও বরাদ্ধ দেয়। বরাদ্ধকৃত ভাতার ওই টাকা তিনি ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ভোগ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোন কারণ ছাড়াই আজিমন নেছার ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়।

এদিকে ভাতা চলাকালীন ১৯৭৬ সালের ১৩ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টের কল্যান বিভাগের প্রধান কাজী আনোয়ারুল করিম স্বাক্ষরিত শহীদভাতা ২: ১২: ৪৮/২৪৪/১৮২ স্মারকে প্রদেয় ভাতা নবায়নের জন্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্রসহ আবেদন করতে আজিমন নেছাকে চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠির আদেশমত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকারী হিসাবে ভাতা নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজ-পত্রসহ তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টের দফতরে দরখাস্ত প্রেরণ করেন। এরপর পেরিয়ে গেছে ৩৮টি  বছর। কিন্তু বয়োবৃদ্ধ আজিমন নেছার ভাগ্যে জোটেনি ভাতার টাকা। মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে ধর্ণা দিতে যেয়ে তিনি এখন বড় অসহায় ও নিঃস্ব। জীবনসায়াহ্নে তিনি চলছেন কোনরকমে। তার দিন কাটছে একরকম খেয়ে-না খেয়ে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আলমডাঙ্গা উপজেলা কমান্ড ইউনিটের কমান্ডার মোঃ শফিউর রহমান জানান, শহীদ মনিরুদ্দিন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীণ তিনি পাকসেনাদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এছাড়া স্থানীয় বেশ কয়েকজন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাও মনিরুদ্দিনকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন। মনিরুদ্দিনের অসহায় স্ত্রীর বাসযোগ্য নিজস্ব কোন ঘরবাড়ি নেই। এছাড়া দৈনন্দিন খাবার ও চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করার সামর্থ্যও নেই তার। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকারী ভাতা প্রাপ্তির জন্য আজিমন নেছা সর্বশেষ ভরসা হিসাবে এখন দেশের সদাশয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনায় অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে আছেন।

 উল্লেখ্য, ’৭১সালে মনিরুদ্দিন শহীদ হওয়ার পর স্ত্রী আজিমন নেছা স্বামীর বসতভিটা আলমডাঙ্গার এরশাদপুর গ্রামে ১০/১৫ বছর বসবাস করলেও পরবর্তীতে ফিরে আসেন কুষ্টিয়ার পৈত্রিক ভিটায়। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে পৈত্রিক ভিটায় বড় ভাই আজগর আলীর আশ্রয়ে থাকেন। আজিমন নেছার একমাত্র বিধবা মেয়ে মনজুরা খাতুনের সংসারেও অভাব নিত্যসঙ্গী। তার স্বামী কুষ্টিয়ার পোড়াদহ ইউনিয়নের সুদিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মুসা উদ্দিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চার বছর আগে মারা যান। ফলে শহীদ পরিবারে সদস্য হয়েও ভাতা বন্ধ থাকায় আজিমন নেছা ও মনজুরা খাতুনের দিন কাটছে অতিকষ্টে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category