,

কৃষি তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

romesh-chandro-pic

 মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেষ চন্দ্র ঘোষ  ( ছবি: প্যারীসুন্দরী.কম)

জাহিদ হাসান:  সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে শহর ও গ্রাম। প্রযুক্তিগত চলমান উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে সব খাতেই। বাদ নেই কৃষিও।

কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কৃষিতে প্রযুক্তির প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। এর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ হ্রাসের পাশাপাশি সময়েরও অপচয় কম হচ্ছে।

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে উন্নত কলাকৌশল, প্রযুক্তির সহায়তায় আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য পরামর্শ দিতে কৃষকের সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কৃষদের হাতের কাছে কৃষি তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ। তিনি ‘কৃষি বায়োস্কোপ’ এর মাধ্যমে কৃষকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষি বায়োস্কোপের মাধ্যমে রাতে প্রজেক্টরে ভিডিওচিত্র দেখিয়ে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদসহ কৃষির সার্বিক বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। এতে করে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে চাষাবাদে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ  জানান, কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্দ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কৃষকরা সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাদের সময় যাতে নষ্ট না হয় এজন্য সন্ধ্যায় কৃষি বায়োস্কোপ দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের সন্ধ্যায় একসঙ্গে পাওয়া যায়। তারা যে সময়টুকু আড্ডা দিয়ে ব্যয় করেন সে সময় আমরা তাদের কৃষি সহায়তা দিতে চ‍াই। এতে করে তারা আরো সচেতন হয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও অধিক লাভবান হতে পারেন।

বায়োষ্কোপ বুঝিয়ে দিচ্ছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা

   বায়োষ্কোপ বুঝিয়ে দিচ্ছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ছবি: প্যারীসুন্দরী.কম)

তিনি জানান, কৃষি বায়োস্কোপের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রদানের গুরুত্ব, গুটি ইউরিয়ার সারের ব্যবহার, ইঁদুর নিধনে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, গমের ব্লাস্ট রোগ থেকে উত্তরণের  উপায়, পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে দ্বিতীয় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের কৃষি পণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্রের ভূমিকা, আদর্শ বীজতলা তৈরি, সঠিক বয়সের চারা রোপণ, আলু ও ভূট্টার একত্রে চাষ পদ্ধতি, আধুনিক ধান চাষ পদ্ধতি, শস্য পর্যায় অবলম্বনের কৌশল, কীটনাশক ছাড়া শাকসবজি উৎপাদনের কলাকৌশল ছাড়াও ফসল সংগ্রহসহ সমকালীন কৃষি বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদশন করা হয়। ফলে কৃষকের দক্ষতা আরো বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরো বলেন, কৃষি বায়োস্কোপের মাধ্যমে উপস্থিত কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা হয়ে থাকে। তাদের আধুনিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরণে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে পর্যায়ক্রমে কৃষি বায়োস্কোপ দেখানো হবে।

রমজান আলী নামে এক কৃষক জানান, কৃষি বায়োস্কোপের মাধ্যমে তারা কৃষি বিষয়ক অনেক অজানা তথ্য জানতে প‍ারছেন।

কৃষক ইদবার আলী জানান, মাটি পরীক্ষা করে চাষাবাদ করতে হয় এটা তিনি কৃষি বায়োস্কোপের মাধ্যমে জেনেছেন। সেইসঙ্গে কিভাবে আধুনিকভাবে চাষ করে লাভবান হওয়া যায় তা জানতে পেরেছেন।

বায়োষ্কোপ দেখছেন সাধারন কৃষকরা

                                                       বায়োষ্কোপ দেখছেন সাধারন কৃষকরা (ছবি: প্যারীসুন্দরী.কম)

কৃষক ফজলু মিয়া জানান, কৃষি বায়োস্কোপের মাধ্যমে ফসল সংগ্রহ, বিক্রি, বেশি দাম পাওয়া, ফসলের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

কৃষানী রহিমা বেগম জানান, কৃষি বায়োস্কোপ দেখে তিনি বসতবাড়ির আঙিনায় শাক-সবজির চাষ এবং হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে বেশি লাভবান হওয়ার কৌশল শিখেছেন।

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল আরেফিন জানান, কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়নে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কৃষকের হাতের নাগালে কৃষি তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে কৃষি অফিস। এর মাধ্যমে সাধারণ  কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category