,

যুবলীগকে আলোকবর্তিকার ভূমিকায় চাই: যুবলীগ চেয়ারম্যান

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ তারুণ্যের দীপ্ত জয়গানের সংগঠন। যুব মেধা লালন, ধারণ এবং এর বিকাশই হলো যুবলীগের অন্যতম লক্ষ্য। যাতে আমরা মেধাভিত্তিক, যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক যুব সমাজ গড়তে পারি। যুব শ্রেণী সমাজের মূল চালিকাশক্তি। মানুষের যে চারটি স্তর অতিক্রম করে তার মধ্যে যৌবনকালই হল শ্রেষ্ঠ কাল। যৌবনকালই হচ্ছে নিজেকে গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়। সৃষ্টির কালই হল যৌবনকাল। খালি পেটে আর যাই হোক রাজনীতি চলে না বলেই কর্মজীবী কর্মক্ষম যুবক হতে হবে। প্রতিটি নেতাকর্মীকে স্বনির্ভর হতে হবে। যুবলীগকে নিতে হবে যুব সমাজের আলোকবর্তিকার ভূমিকা। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত যুবলীগের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি এসব কথা বলেন। ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, রাজনীতি মানে শুধু দলাদলি আর ক্ষমতার লড়াই নয়। রাজনীতি অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার আলোকে ভুল-ত্রুটি সংশোধন, আত্মসমালোচনা এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অব্যাহতভাবে জনসেবার নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়াও।

গত কয়েক বছরে যুবলীগের কর্মকা- পর্যালোচনা করলেই তা বোঝা যাবে। আমরা এসময় ইতিহাস অন্বেষণ করেছি, গবেষণা করেছি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা করেছি। যুবলীগকে আমরা অগ্রসরমান, পথিকৃৎ এবং যুব সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখতে চাই। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দেশ গড়ার ডাকে এখন তরুণরা প্রবাস থেকেও ফিরে আসছেন। কারণ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এখন তরুণদের। যুবকদের দেশ। এই তরুণ ও যুবকরাই এখন সম্পদ। উচ্চশিক্ষা শেষ করে কৃষিকাজে জড়িত হচ্ছে-এই তরুণরা, এই যুবকরা। আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন চিন্তা নিয়ে তরুণরা এগিয়ে আসছেন। মৎস্য খামার, ফলের বাগান, সবজি ও মসলা চাষের মতো উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনে এখন সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আসছেন তরুণ-যুবক উদ্যোক্তরা। কৃষিকাজ মানে শুধু গ্রামের মামুলি কাজ এই ধারণা বদলে দিচ্ছে এই তরুণরা। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আর মান দেশেই নিশ্চিত করছে এই তরুণরা।

তিনি বলেন, রাজনীতি হচ্ছে কঠিন ত্যাগ-তিতিক্ষার ব্যাপার। মানুষকে রাষ্ট্র চিন্তায় উদ্বুুদ্ধ করে তার মধ্যে প্রেরণা সৃষ্টির মন্ত্র মানব কল্যাণের আদর্শিক উপায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থাশীল যুবকদের নিয়েই এই যুবলীগ। কাজেই যুবলীগের প্রতিটি নেতা কর্মীকে হতে হবে মানবিক, মেধা ও মনন মনস্ক, যুক্তিবাদী। মানুষের প্রতি ভালবাসাই জাতির পিতার সবচেয়ে বড় আদর্শ। যে আদর্শ বিকশিত করেছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ দর্শনের মাধ্যমে। যুবলীগকে এই আদর্শ লালন ও ধারণ করতে হবে। জনগণের অধিকার, ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার, বাসস্থানের অধিকার, কথা বলার অধিকারসহ জনগণকে সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আনাই আমাদের লক্ষ্য।

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। তার গৌরবময় পথচলার ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের বছর ২০১৬। বিশ্বের মানচিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এবং রক্তাক্ত সংগ্রামের ভেতর দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যদ্বয়। সেই গৌরবময় সংগ্রামে অস্ত্র হাতে শত্রুর মোকাবেলা করেছিল এ দেশের অকুতোভয় যুব সমাজ। শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে আইয়ুব বিরোধী গণ-আন্দোলনেও দেশের যুব সমাজই ছিল রাজপথে অগ্রগামী। আর তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ক্রমান্বয়ে তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা-‘বঙ্গবন্ধু’ এবং জাতির পিতা হয়ে উঠেছিলেন। হয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। মূলত তিনিই বাঙালি জাতির জীবনে প্রথম তারুণ্যের প্রতীক। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ তারই আদর্শে গড়া সংগঠন। জাতির পিতার নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনি যবুলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যে কারণে যুবলীগের প্রতিটি কর্মী এক অনন্য গৌরবের উত্তরাধিকার বহন করে চলেন হৃদয়ের গভীরে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুবলীগের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির দর্শন “জনগণের ক্ষমতায়ন”-এ আমরা বিশ্বাসী। সেই লক্ষ্যে জনমত সৃষ্টি করা আমাদের কাজ। দেশের ভেতর একটি অরাজনৈতিক অশুভ শক্তি আছে, যাদের মূল কাজ মিথ্যাচার, মূর্খতা, আর বেয়াদবি। যারা বর্হিবিশ্বে বর্তমান সরকারকে একটি ব্যর্থ সরকার প্রমাণ করে দেশের রাজনীতিতে বাইরের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন স্বাধীনতা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দিচ্ছেন অর্থনৈতিক মুক্তি আর ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি। যার ফলে জাপান, চীন, ভারত, আমেরিকা, সৌদী আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাহায্যের হাত বড়িয়ে দিয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় দিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্থাৎ জ্ঞান নির্ভর বাংলাদেশ। আর শেখ রাসেলের জীবন থেকে আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই, তাহলো পরিবার বন্ধন। পরিবার বন্ধনে যে একটি শিশুর প্রকৃত বিকাশ ঘটতে পারে তার প্রমাণ শেখ রাসেল। আজ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে পারিবারিক বন্ধন এবং পারিবারিক একাত্মতা কত যে প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর পরিবারের দিকে তাকালেই শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। এই “জনগণের ক্ষমতায়ন” বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মানুষকে জাগাতে হবে, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের অবসান নিশ্চিত করা হবে। এই সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। আগুন সন্ত্রসীদের বিচার করতে হবে। আগুন সন্ত্রাসের হুকুমের আসামি খালেদা জিয়ার বিচার করতে হবে। এই বিচার করলেই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হবে। এ দেশে আইএস নেই।

ওমর ফারুক বলেন, যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই (২৫ জুলাই ২০০৯) আমি সংগঠনটির আদর্শিক চেতনা এবং এর বিকাশের ব্যাপারে উদ্যোগী হই। সেই লক্ষ্যে প্রথমে আমাদের রাজনীতির শিকড় অনুসন্ধানের কাজ করি। আর সে কারণেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার চিন্তা, তাঁর রাজনৈতিক কর্ম, তাঁর দর্শন বিশ্লেষণের চেষ্টা করি। আমি সব সময় পেশাদারি এবং উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করানোর পক্ষপাতি। এই লক্ষ্যেই শেখ হাসিনার রাজনীতি, তাঁর চিন্তা-ভাবনাগুলোকে ধারনের জন্য একটি পেশাদার গবেষকদল তৈরি করে বিশ্বে ৩৯টি রাষ্ট্র সফর করি। এই গবেষক দলটি দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে শেখ হাসিনার রাজনীতির উপর গবেষণা করে। এই গবেষণার ফলাফল ছিল ঐতিহাসিক, তাৎপর্যপূর্ণ এবং অসাধারণ।

এই গবেষণায় আমরা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনীতি বিশ্লেষণ করে দেখি যে জাতির পিতার রাজনৈতিক আদর্শে বড় হলেও কখনই ইন্দিরা গান্ধী কিংবা বেনজির ভুট্টোর মতো শেখ হাসিনার ভবিষ্যত গড়ে উঠেনি। শেখ হাসিনা বিকশিত হয়েছেন তাঁর আপন মহিমায় চারপাশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে। যেখানে সবকিছু তাকে দ্রুত আয়ত্ত করতে হয়েছে সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। আমরা গবেষণায় তাঁর জীবন ও রাজনীতি বিশ্লেষণ করে পাই যে, তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সব চেয়ে বড় পাথেয় ও শক্তি হলো জনগণ। রাজনীতিতে শেখ হাসিনার এক অভূতপূর্ব দিক হলো, তিনি জনগণের হৃদয়স্পন্দন শুনতে পান। তাঁর বিষয়টি হলো এই রকম জনগণকে সচেতন করা। তাদের জাগাও, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল নিয়ামক করো। তাহলেই শান্তি আসবে, মানুষের উন্নতি হবে। এই কারণেই আমরা শেখ হাসিনার দর্শনের নাম দিয়েছি “জনগণের ক্ষমতায়ন”।

যা জাতিসংঘের ১৯৪টি রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। এই দর্শনটি এখন বিশ্ব দলিল। বিশ্ব মানবতার মুক্তির কৌশল, একই সাথে এই দর্শনটি এখন বাঙালির নব জাগরণের পথ নির্দেশিকা। এই কারণেই এই দর্শনটি আমরা দেশের ভেতরে ব্যাপক প্রচারের এবং বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছি। পরবর্তীতে আমরাই প্রথম পত্র-পত্রিকায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধুর আমল, জিয়ার আমল, এরশাদের আমল, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল এবং শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করেছি। আমরাই প্রথম কর্মসূচি প্রণয়নের ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। আমরা প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে একুশে বইমেলায় যুবজাগরণ নামে বুকস্টল নিয়েছিলাম। শেখ হাসিনার লেখা বই, শেখ রেহেনার লেখা বই এবং যুবলীগের অসংখ্য গ্রন্থ, বই, লিফলেটসহ বিভিন্ন প্রকাশনা ক্যালেন্ডার বিক্রি করি। অর্থাৎ সংগঠনের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছি। প্রতিটি সভাকে কর্মসূিচর সভা, সম্ভাবনার সভা, আত্মীয়তার সভায় রূপান্তারিত করেছি।

 

সুত্র: দৈনিক আমার সংবাদ

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category