,

মিরপুরে ‘আজিবার স্বর্ণ’ জাতের ধান উদ্ভাবন

জাহিদ হাসান: কুষ্টিয়ার মিরপুরে “আজিবার স্বর্ণ” নামে নতুন এক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে এক কৃষক। কৃষকের নাম আজিবার হওয়ায় স্থানীয়রা ধানের জাতের নাম দিয়েছে “আজিবার স্বর্ণ”। নতুন এ ধানের জাত উদ্ভাবন করায় স্থানীয় কৃষকরা জাতটি চাষের আগ্রহ দেখিয়েছে। কৃষক আজিবার রহমান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের মৃত ছবেদ হোসেন মালিথার ছেলে।

kushtia-azibar-pic-6
কৃষক আজিবার রহমান জানান, আমি বেশ কয়েক বছর আগে থেকে ধানের জমিতে যেসব ধান বড় বড় হয় সেগুলো বাছাই করে বাড়ীতে নিয়ে আসতাম। সেগুলো আবার বীজ হিসাবে ব্যবহার করি। এভাবে বেশ কয়েক বছর করেছিলাম। তবে আশানুরুপ ফলন পাই নি। তিনি আরো জানান, একবার তো খুব ভালো ফলন পেয়েছিলাম তবে ভাত খেতে সুস্বাদু ছিলো না। চাউল দেখতে ভালো ছিলো তবে ভাতের মাড় বের হতো সবুজ। ভাত তিতা লাগতো। তিনি জানান, ২০১৪ সালে আমি এক বিঘা জমিতে ব্রি-ধান ৪৯ জাতের ধান চাষ করি। তারপর এর মধ্যে কিছু বড় বড় কিছু ধান আলাদা করে বীজ হিসাবে ব্যবহার করি। পরের বছর আমি একবিঘা জমিতে সেটা ব্যবহার করি। সেখানে ভালো ধান জন্মে। ফলন ও ভালো হয়। সেই সাথে চাউলও ভালো হয়েছিলো তাছাড়া ভাতও খেতে সুস্বাদু। এজন্য আমি এবারে তিন বিঘা জমিতে এই ধানের চাষ করেছি। আমার দেখাদেখি এই এলাকার অনেক কৃষক এ ধান চাষ করেছে এবার। তিনি আরো জানান, ধানের গাছ গুলো তুলনামূলকভাবে বড়, প্রতি গোছায় ধানের গাছের সংখ্যা ৩৫-৪০টি। জীবনকাল ১১৫-১২০দিন। ফলন বিঘাপ্রতি ২০-২২ মন। ধানের শীষ ও অনেক বড় বড়। প্রতিটি শীষে ধানের সংখ্যা প্রায় ২৫০-৩০০টি। আর ধানও চিকন। তাই এটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

kushtia-azibar-pic-1
তিনি আরো জানান, চলতি বছরে আমার এলাকার প্রায় ২০ থেকে ২৫জন কৃষক তাদের জমিতে এই নতুন জাতের ধান চাষ করেছে। এর মধ্যে দুলাল ২বিঘা, বৈদ্যনাথ ১ বিঘা, আইনাল ২ বিঘা, মুসা ৩বিঘা, সিরাজুল মালিথা ২ বিঘাসহ আরো অনেকজন এ ধানের চাষ করেছে।
চাষী দুলাল জানান, আজিবার রহমানের উদ্ভাবিত নতুন “আজিবার স্বর্ণ” জাতের ধান আমি এবছর দুই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। ধানগুলো বেশ বড় বড় হয়েছে। শীষ ও অনেক বেশি। আশা করছি ভালো ফলন পাবো।
চাষী সিরাজুল মালিথা জানান, এলাকার অনেক কৃষক এ ধান চাষ করেছে তাই আমি আজিবার রহমানের কাছ থেকে বীজ নিয়ে এ ধান চাষ করেছি।
তিনি আরো জানান, এই এলাকার অনেক চাষী এ ধান চাষ করেছে। আগামীতে এর আরো বিস্তার লাভ করবে।

kushtia-azibar-pic4
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, আজিবার রহমান নিজে বীজ সংরণ করে  নতুন জাতের ধান চাষ করেছেন। এটা ঐ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কার্যকরী কুশি সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে বেশি। আর কৃষকরাও  বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, গাছের উচ্চতা বেশী এবং ধানের কুশির সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয় ভাবে উদ্ভাবিত ধানটি  জনপ্রিয় হবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category