,

৬৫টিতে পিএসসি পরীক্ষীর্থী!

মহসীন আলী, মেহেরপুর প্রতিনিধি: বিদ্যাশিক্ষা করা ফরজ। শিক্ষা ছাড়া মানুষ দুচোখ থেকেও অন্ধ। শিক্ষা না থাকলে পদে পদে ঠকতে হয়। শিক্ষা মানুষকে মানুষ হতে শেখায়, মানুষকে আলোকিত করে।শিক্ষার কোন বয়স নেয়। জ্ঞানের আলো মানুষকে সত্য ও সঠিক পথ দেখায় ।শিক্ষা ছাড়া মানুষের জীবনে উন্নতি সম্ভব নয় এই কথাগুলো ৬৫ বছর বয়সে হলেও উপলব্ধি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন বাছিরন নেছা নামের এক বৃদ্ধা।
বাছিরন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়ীয়া পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।তিনি হোগলবাড়ীয়া মাঠপাড়ার মৃত রহিলউদ্দীনের স্ত্রী। বাছিরন নেছা ৫ বছর আগে বাড়ী থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তৎকালীন হোগলবাড়ীয়া পূর্বপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তার পর থেকেই নিয়মিত স্কুলে যাওয়া-আসা। স্কুলে উপস্থিতি তাঁর শতভাগ। ছোট ছোট বন্ধু-বান্ধবদের পিছনে ফেলে প্রতি ক্লাসেই তাঁর রোল নং ২ থেকে ৪ এর মধ্যে থাকে। বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে তিনি প্রতি ক্লাসে ভালভাবে উত্তীর্ণ হয়ে এবছর তিনি পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। বয়সের ছাপ ফেলে মাথার চুলগুলো সব সাদা হলেও মুখে অনাবিল হাসি সব সময় লেগেই থাকে।

b-6-300x225-300x225এত বছর বয়সে স্কুলে ভর্তির বিষয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী বাছিরন জানান, আমার ৩ সন্তান। এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে রেখে আমার স্বামী প্রায় ৩৫ বছর আগে মারা গেছেন। আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবো। অন্তত হাই স্কুল পর্যন্ত পড়াব। কিন্তু আমার পারিবারিক অসচ্ছলতার কারনে তাদের লেখাপড়া শেখাতে পারিনি। ছেলে মেয়েরাও লেখাপড়াতে অনীহা দেখালে আমি প্রাথমিক পর্যায় থেকে তাদের বিয়ে দিয়েছি। আমি ছেলে মেয়েদের বলেছিলাম, তোরা লেখাপড়া করলি না, আমি তোদের ছেলে মেয়েদের সাথে হাই স্কুলে পড়বো। অশ্রুসজল চোখে এই কথাগুলো বলতে বলতে তার ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের কথা বললেন। বড় মেয়ে জাহানারা খাতুনের ৩ ছেলে মেয়ে, একমাত্র ছেলে মহিরউদ্দীনের ২ ছেলে। বড় নাতি জাহিদ কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের ছাত্র অন্যজন নাহিদ গ্রামের স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। ছোট মেয়ে বানেরা খাতুনের এক ছেলে জসীম। পুত্রবধূ তাকে কেমন দৃষ্টিতে দেখেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার ছেলে ও বউমা আমাকে স্কুলে যেতে সহায়তা করে। আমার পড়াশুনাতে কোন আপত্তি করে না। আমার প্রতিবেশী বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও গ্রামবাসীরা আমাকে উৎসাহিত করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আনারকলি জানান, স্কুলের ছোট ছোট সহপাঠীদের সাথে নিয়মিত ক্লাস করেন তিনি। সবার আগে অর্থ্যাৎ সকাল ৯ টার মধ্যে প্রতিদিন স্কুলে আসেন। লেখাপড়াতে তাঁর খুব আগ্রহ। শিক্ষকদের কথাও মনোযোগ দিয়ে শোনেন। ক্লাসের সহপাঠীরা তাকে পেয়ে খুব আনন্দে লেখাপড়া ও তার সাথে খেলাধুলা ক

b-4-560x420-300x225

রে থাকে। সহপাঠিদের সাথে খেলাধুলা করতে, মিশতে বা মানিয়ে নিতে কোনই সমস্যা হয় না। তিনি নিজেকে শিশুই মনে করেন। তিনি সারাক্ষণ লেখাপড়া নিয়েই থাকেন। সকালে পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠ ও নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলালউদ্দীন আহমেদ জানান, নাছিরন নেছা এবছর পিএসসি পরীক্ষার্থী। আমি তাঁর আগ্রহ দেখে স্কুলে ভর্তি করেছি ।তিনি এলাকার নিরক্ষর মানুষের জন্য একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে বয়স কোন বাঁধা নয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবর আলী জানান, আমি প্রধান শিক্ষকের নিকট বৃদ্ধা মহিলা বাছিরনের কথা শুনেছি। তার আগ্রহের খবরে আমি খুব খুশী।মানুষ হিসাবে সকলকে সাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া দরকার। এরকম নিরক্ষর মানুষ শিক্ষায় এগিয়ে আসলে সরকারের সবার জন্য শিক্ষা কর্মসূচী সফল হবে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category