,

কুষ্টিয়ায় বোরো সংগ্রহের অর্থ ফেরত যাচ্ছে

ষ্টাফ রিপোর্টার: কুষ্টিয়ায় বোরো চাল সংগ্রহের জন্য দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দ কয়েক হাজার টন চাল কেনা হচ্ছে না। এবরাদ্দ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাচ্ছে বলে খাদ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুই দফা সময় বাড়িয়েও কোন লাভ হয়নি। চাল দেয়নি বেশির ভাগ মিল মালিকরা। বাজারে যে দামে চাল বিক্রি হচ্ছে সেই তুলনায় সরকার প্রায় তিন থেকে চার টাকা কমে চাল কিনছে। এতে মিল মালিকেরা লোকসানে পড়বে। এজন্য মিল মালিকরা চাল দেয়নি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই মন্ত্রনালয় থেকে বোরো চাল কেনার জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি আসে। প্রথম পর্যায়ে আগষ্ট মাসে জেলায় ৮ হাজার ৫৪১ টন চাল কেনার জন্য ৫৮৮ জন মিল মালিক চুক্তি করে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৩৩৮ টনের বিপরীতে ৩২০ জন মিলার চুক্তি করে। চুক্তি ও নানা জটিলনায় ৩০ আগষ্ট চাল কেনার  মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় চাল কেনা খুবই কম হয়। এরই প্রেক্ষিপ্তে  জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মন্ত্রণালয়ে চাল কেনার সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন।
পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের আদেশে সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করে চাল কেনার মেয়াদও বাড়ানো হয়। এতে সদরে ১০ হাজার ১৭৯ টনসহ জেলায় ১৪ হাজার ৩ টন চাল কেনার বরাদ্দ আসে। সরকার চাল বেশি কেনার জন্য জেলায় অতিরিক্ত আরও ৫ হাজার ৪৬২ টন বরাদ্দ দেয়।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ৩২ টাকা কেজি দরে চাল কেনা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বরাদ্দের সময় জেলায় বোরো চাল খোলা বাজারে এর থেকেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সেজন্য সেসময় অধিকাংশ মিল মালিক এই বরাদ্দের বিপরীতে চুক্তি করতে আগ্রহ দেখায়নি। কেননা লোকসানে কোন মিল মালিকই চাল দিতে রাজি না।
প্রথম দফায় ৩১ আগস্ট, দ্বিতীয় দফায় ১৫ অক্টোবর এবং তৃতীয় ও শেষ দফায় চাল কেনার শেষ সময় ছিল গত ৩১ অক্টোবর। এপর্যন্ত জেলায় মোট ১৪ হজার ৩ টন বরাদ্দ  বিপরীতে মঙ্গলবার পর্যন্ত  জেলায় ৭ হাজার ৬৮৫ টন চাল কেনা হয়েছে। যা প্রথম দফা বরাদ্দেরও কম। সদরে ১০ হাজার ১৭৯ টনের বিপরীতে কেনা হয়েছে প্রায় অর্ধেক ৫ হাজার ৫০০ টন।
সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা একেএম শাহ নেওয়াজ জানান, মেয়াদ আর বাড়েনি। বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় বেশির ভাগ মিল মালিক লোকসানের ভয়ে চাল দেয়নি। এ কারনে মাত্র অর্ধেক চাল সংগ্রহ হয়েছে।
মিল মালিক লিয়াকত হোসেন জানান, সরকার অন্য বছরের মত এ বছর ধান ও চাল এক সাথে ক্রয় করলে এ অবস্থা হতো না। প্রথমে ধান ও দুই মাস পরে চাল ক্রয় যতদিনে শুরু করে ততদিনে বাজারে ৩২ টাকার চাল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। লোকসান দিয়েও তারা চাল দিয়েছেন।
বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান জানান, সরকারের নির্ধারিত কেজি প্রতি ৩২ টাকা দরের বিপরীতে বাজারে চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে এখন সর্বনিম্ন ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা দরে চাল বিক্রি হচ্ছে। প্রথম পর্বে বাজারের চালের দাম কম থাকায় চালকল মালিকেরা চুক্তি করেন। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে অতিরিক্ত বরাদ্দের সময় চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কেউই কোনো চুক্তি  করেনি।
তিনি জানান, আগামী আমন মৌসুমে ধান ও চালের দাম বাজার অনুযায়ী নির্ধারন করলে এ সমস্যা থাকবে না।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্বপন কুমার কুন্ডু জানান, দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দ পাওয়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাচ্ছে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category