,

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে জড়ালে আমাদের ক্ষতি

ডেক্স নিউজ: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে জড়ালে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতি হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা খুবই উদ্বেগজনক। আমরা চাই না যে দুই দেশ যুদ্ধে জড়াক। কোনো রকম সংঘাত এই অঞ্চলে হোক, এটা আমাদের কাম্য নয়। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমাদের উন্নয়ন যাত্রাও ব্যাহত হবে।’

রোববার বিকেলে গণভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি কি ধরনের নির্বাচন কমিশন চায়? বিএনপি এক নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ক্ষমতায় থাকতে। সেখানে ১ কোটি ৩১ লাখের বেশি ভুয়া ভোটার সংবলিত ভোটার তালিকা করেছিল। এখন এমন ভুয়া ভোটার সংবলিত তালিকা নেই। এটিই বোধহয় বিএনপির পছন্দ না।’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নতুন করে কোনো চিন্তাভাবনা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান যেটা বলছে সেটা তাদের মতামত দিচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন স্বাধীনতার পর পর। জিয়াউর রহমান যখন নিজেকে অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করল সংবিধান লঙ্ঘন করে, সে কিন্তু ক্ষমতায় এসেই এই বিচার বন্ধ করে দেয় এবং যারা বন্দি ছিল তাদেরকে ছেড়ে দেয়। ২২ হাজারের মতো মামলা হয়েছিল, যেগুলো প্রত্যাহার করে নেয় মার্শাল ল অডিন্যান্স দিয়ে। শুধু তাই নয় স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে যারা পাকিস্তানিদের দোসর ছিল তাদেরকেই কিন্তু জিয়াউর রহমান এই দেশে প্রধানমন্ত্রী করে, মন্ত্রী বানায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আর যারা আলবদর বাহিনী, রাজাকার বাহিনী প্রধান তাদেরকে জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়াও মন্ত্রী বানায়।’

‘পাকিস্তান একটি পরাজিত শক্তি। তাদেরকে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি’, মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় বঙ্গবন্ধুর আমলে। সে সময় পাকিস্তানই বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুটি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে। মত ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আমাদের দেশের মানুষের এটাই চিন্তাভাবনা করা উচিত যে, আমরা তো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। কাজেই যারা পরাজিত তারা অনেক কিছু বলতে পারে। তারা কী বলল, না বলল, তাতে আমাদের কী আসে যায়! আমাদের যা কাজ করার আমরা তা করে যাচ্ছি। আমরা তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে যাচ্ছি। আর তাদের তো ব্যথা লাগবেই। কারণ এরা তো তাদেরই পেয়ারে বান্দা। তাদের জন্য তারা একটু কাঁদবে না! তারা তো কাঁদবেই। আরও তো অনেকে কাঁদে। কূটনৈতিক সম্পর্ক চলবে, আবার ঝগড়া-ঝাটিও চলবে। এটা কোনো ব্যাপার না।’

সার্ক সম্মেলন নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু পাকিস্তান এ ধরনের মন্তব্য করেছে, কাজেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সার্ক সম্মেলনে যাব না। আরও চারটি দেশও যাচ্ছে না। আর সাতটার মধ্যে চারটিই যদি না যায় তাহলে তিনটা থাকলে সম্মেলন হবে কীভাবে? তাই পাকিস্তান বাধ্য হয়েছে সম্মেলন বন্ধ করতে।’

সার্ক বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্কের বর্তমান চেয়ারপারসন হচ্ছে নেপাল। যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়ে তাহলে সার্কের অন্যান্য দেশ মিলেই নিতে হবে। আমরা এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। কারণ আমরা তো আর সার্কের চেয়ারপারসন না।’

কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ঈদুল আজহার পর দিন ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। ১৭ দিনের সফর শেষে গত শুক্রবার বিকেলে দেশে ফেরেন তিনি। এই সফরে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category