,

খোকসায় ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত


খোকসা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার খোকসার সেনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মৌখিকভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঐ শিক্ষককে বরখাস্ত করেছে।
জানা গেছে, সেনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ওরফে দুখু অষ্টম শ্রেনির একাধিক ছাত্রীকে নানা সময়ে প্রেম নিবেদনসহ নানা প্রকার কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে ডেকে নেয়। ছাত্রীর বোরকার নেকাব খুলতে বাধ্য করে। এক পর্যায়ে ছাত্রীটির মুখে চুমু দেবার চেষ্টা করে। ছাত্রীটি এ ঘটনা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে জমায়েত হলে তাৎক্ষনিক ভাবে বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষনা করে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
এদিকে প্রধান শিক্ষক লাল মুহাম্মদ ৮ম শ্রেণির ওই তিন ছাত্রীকে আটকে ঘটনাটি ধামা চাপাদেবার চেষ্টা করে। বিকালে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ওই শিক্ষককে মৌখিক ভাবে সাময়ীক বরখাস্ত করার ঘোষনা দেন প্রধান শিক্ষক।
ভুক্তভুগি ঐ শিক্ষার্থী জানায়, বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরের পর শিক্ষক নজরুল ইসলাম আমাকে স্কুলের লাইব্রেরীতে দেখা করতে বলেন। কিন্তু সে দিন সে আর দেখা করেনি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষক তাকে আবারো লাইব্রেরীতে ডাকেন। এক পর্যায়ে সে লাইব্রেরীতে গেলে ছাত্রীর বোরকার নেকাব খুলতে বাধ্য করেন শিক্ষক নজরুল। তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং মুখে চুমুদেবার চেষ্টা করে। বিষয়টি সে তাৎক্ষনিক ভাবে নিজের সহপাঠিদের জানায়।
এদিকে একই ভাবে একই শ্রেণির আরো দুই শিক্ষার্থী তাদের উপর যৌন হয়রানির অভিযোগ করে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তারা অভিযোগ করে, শিক্ষক নজরুল ইসলাম তাদেরও স্কুলের লাইব্রেরীতে নিয়ে গিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। অংকে ফেল করিয়ে দেওয়া ভয়ে তারা প্রথম দিকে মুখ খোলেনি।
যৌন হয়রানির শিকার এক ছাত্রীর অভিভাবক জানান, মাষ্টারের কুকিত্তির পর থেকে মেয়ে আর স্কুল মুখে যেতে চাচ্ছে না। আমি ঐ শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।
নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি উত্তম কুমার সাহা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের দোষ স্বীকার করেছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাময়ীক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে সাধারণ সভা ডেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হকের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই। রবিবারে তিনি এসে তিনি শুনবেন বলেও জানান।
উল্লেখ্য শিক্ষক নজরুল ইসলাম সাত বছর আগে এই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। তার সংসারে ৫ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category