,

বিদ্যুতের লুকোচুরি, অতিষ্ট হরিপুরবাসী, জনদুর্ভোগ চরমে

এস.এম সম্রাট, স্টাফ রির্পোটার: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের বিদ্যুতের যে বেহাল দশা যা আগের ইতিহাস কে হার মানিয়ে দিচ্ছে।

গত কয়েক মাস ধরে রাতে ও দিনে পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। সেই সাথে জনগণের ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি প্রতিদিন দিনে ও রাতে ৮-৯ ঘন্টা করে লোডশেডিং দিচ্ছে। এছাড়াও অগনিতবার বিদ্যুৎ আসা- যাওয়ার খেলা চললেও দেখার কেউ নেই। আকাশে সামান্য মেঘ আর ঝড়ো বাতাস হলেই বিদ্যুৎ হীন হয়ে পড়ে গ্রামটি। বিদ্যুতের এ ভেলকিবাজিতে এইচএসসি ও অর্নাস অধ্যায়ণসহ সকল শ্রেণী পরীক্ষার পরীক্ষার্থী, গ্রাহক ও বিদ্যুত নির্ভর বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা পল্লী বিদ্যুতের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন বিদ্যুতের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অপরদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে পড়াশোনার পরিবেশ।

কয়েকজন ছাত্র ছাত্রী অভিযোগ করেন, সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসলেই শুরু হয় বিদ্যুতের ভোগান্তি।

বেশ কয়েকজন স্কুল শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অসহ্য গরমে শ্রেণীতে ছাত্র ছাত্রীরা মনোযোগী হতে পারে না। যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যুতচালিত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের একাধিক ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন সকালে, দুপুরে, বিকেলে, সন্ধ্যা এবং রাতের শেষ ভাগে ৮-৯ ঘন্টা লোডশেডিং দেওয়ায় ফ্রীজসহ বিদ্যুত চালিত যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দিনের বেলায় একাধিক বার লোডশেডিং দেওয়ায় ডিজিটালের যুগে বিভিন্ন অফিস ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারসহ মূল্যবান ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

কয়েকজন কম্পিউটারের দোকানদারদের সাথে কথা বললে তারা অভিযোগ করেন, আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ নির্ভর। ঘন ঘন লোডশেডিং এর কবলে পড়ে সারা দিনে ১০০টাকা রোজগার করতে পারি না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে মিনিটে মিনিটে ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং এর হাত থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এই ব্যাপারে ১নং হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ জানান, এই বিদ্যুৎ ভোগান্তি নিরসনের জন্য পল্লী বিদুৎ কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলে। তারা জানান কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিদ্যুৎ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই ত্রুটি সংশোধন করতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।

তবে এ ব্যপারে সঠিক কোন সুরাহা দিতে পারে নি কর্তৃপক্ষ।

Facebooktwitterlinkedinyoutube
Facebooktwitterredditpinterestlinkedin


     More News Of This Category